গোপালগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৭:১৩
গোপালগঞ্জে ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেয়ার প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের লোকজন ইউপি সদস্য লাসমত সরদারকে মারপিট করেছে। এদিকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
গোপালগঞ্জ: শনিবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার পাইকান্দি ইউনিয়নে  ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবাদ করায় লাসমত সরদার নামের ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বরকে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাম্মী আকতার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
 
লাসমত সরদার অভিযোগ করে বলেন, ঈদ উপলক্ষে পাইককান্দি ইউনিয়নের দুঃস্থ ১ হাজার ৪০৪ পরিবারে ২০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। শনিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান সিকদার চাল বিতরণ শুরু করেন। বিতরণকৃত চাল দেখে ওজনে কম দেয়া হচ্ছে বলে আমার সন্দেহ হয়। আমি দুঃস্থ এক মহিলার চাল পরিমাপ করে ২০ এর স্থলে ১৩ কেজি পাই। এ সময় প্রত্যেককেই ১৩/১৪ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছিল। বিষয়টি আমি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবিহিত করি। এতে চেয়ারম্যানের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারপিট করে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসলে সকালের তুলনায় প্রত্যেকে চাল ৩/৪ কেজি চাল বাড়িয়ে বিতরণ করা হয়। তারপরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাল পরিমাপ করে ওজনে ৩ কেজি করে কম পান। আমাকে মারপিটের ব্যাপারে আমি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
 
অভিযুক্ত পাইককান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান সিকদার ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই ইউপি মেম্বর তার ওয়ার্ডে ১৫০টি ভিজিএফ কার্ড দাবি করেন। কিন্তু তাকে ৮০টি কার্ড দেয়া হয়। তাকে কার্ড কম দেয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হন। আজ  চাল বিতরণের সময় ওজনে কম দেয়া হচ্ছে বলে মিথ্যা অভিযোগ করেন। সকালে জোর করে এক মহিলার চাল তিনি মাপতে গেলে তার স্বজনরা তাকে ইউপি পরিষদের বাইরে চর ধাপ্পর মেরে লাঞ্ছিত করেছে বলে শুনেছি। আমি কিংবা আমার লোকজন তাকে মারপিট করেনি। আমাদের বিরুদ্ধে মেম্বরের আনিত মারপিটের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
 
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাম্মী আকতার বলেন, আমি অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চাল ওজনে কম দেয়ার সত্যতা পেয়েছি। বিতরণকৃত চাল পরিমাপ করে ২০ কেজির স্থলে ১৭ কেজি পেয়েছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ইউপি মেম্বরকে মারপিটের কথা শুনেছি।
 
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর): রামগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে উপজেলার ৮নং করপাড়া ইউনিয়নে দুস্থদের মধ্যে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হয়।
 
উপজেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এই ইউনিয়নের ৮৪৫ পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি হারে চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তার স্থলে ১০ থেকে ১২ কেজি চাল দেন। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের ভেতর থেকে চাল নিয়ে আসা ভুক্তভোগী সদস্যরা এমন নানা অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাগ অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার শরীফ উল্যাকে না পেলেও ওই অফিসের পিয়ন মো. অজি উল্যাকে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে খোশ গল্প করতে দেখা যায়।
 
শিক্ষা অফিসের পিয়ন অজি উল্যা বলেন, ট্যাগ অফিসার ঈদের ছুটিতে ঢাকায় চলে যাওয়ায় আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আমার সামনে দুই বালতি করে চাল দেয়া হয়েছে। সেখানে কত কেজি চাল তা আমি জানি না।
 
৮নং করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মজিবুল হক মজিব বলেন, আমি ৮৪৫টি কার্ড পেয়েছি। কিন্তু সুবিধাভোগী ১১০০ এর বেশি হওয়ায় ২০ কেজির স্থলে ১২/১৪ কেজি করে সবাইকে ভাগ করে দিয়েছি।
 
ট্যাগ অফিসার মো. সরিফ উল্যা জানান, আমি ঢাকায় আছি। চাল বিতরণের জায়গায় আমার স্থলে আমাদের পিয়ন অজি উল্যা আছেন। বিতরণে কোন সমস্যা হলে চেয়ারম্যানসহ ও নেতৃস্থানীয় যারা আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমন্বয় করুন।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রিজাউল করিম জানান, আইনগত ভাবে সুবিধাভোগীদের তালিকার বাহিরে কাউকে ২০ কেজির কম বেশি বা অতিরিক্ত কোন লোককে দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। সরকারি নির্দেশনার বাহিরে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি