সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেফালি খাতুনের স্বামী মহব্বত আলি বলেন, 'গত তিনদিন আগে আমার স্ত্রীকে সিজার করার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছেন বিদ্যুৎ নেই। তোমার স্ত্রীকে যদি সিজার করতে হয় তাহলে জেনারেটরে তেল কিনে দিতে হবে। আমি তেল কিনে দিলে তারপর ডাক্তারা আমার স্ত্রীকে সিজার করেন।' সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গিয়ে এ অবস্থা দেখা যায়।
বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা। তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার, এক্সরে ও সিটিস্কানসহ পরীক্ষার যন্ত্রপাতি।
ফলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীরা। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।
সিদ্দিকুর রহমান নামে আর এক রোগীর স্বজন জানান, তার এক আত্মীয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতলে তিনদিন আগে ভর্তি হয়েছেন। এরপর থেকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎ ও পানি নেই।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল জানান, বিদ্যুৎ বিভাগকে বারবার জানিয়েও কোন ফল হয়নি। ৫০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফর্মার দিয়ে হাসপাতালের সব ইউনিট চালানো সম্ভব নয়। তাই আলাদা একটি সাবস্টেশন বসানোর দাবি এই চিকিৎসকের।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমান জানান, এক সপ্তাহ আগে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ট্রান্সফরমারটি নষ্ট হয়ে যায়। সদর হাতপাতালের প্রয়োজন ১৫০ কেভি পাওয়ার ট্রান্সফরমার। বিদ্যুৎ অফিসে বারবার বলা হলেও তারা ৫০ পাওয়ার কেভির বেশি দিতে পারছে না। এ বিষয়ে খুলনা স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুনটি পাওয়া গেলে অপারেশনসহ যাবতীয় কাজ করা যাবে বলে তিনি জানান।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. ইফতেখার হোসেন জানান, রোগীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ অফিস থেকে ৫০ কেভি পাওয়ারের একটি ট্রান্সফরমার লাগানো হয়েছে। ১৫০ পাওয়ার কেভিটি দুই-একদিনে মধ্যে পাওয়া যাবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
