খুলনায় ভিজিএফের চাল কম দেওয়ায় ইউএনওকে ঘেরাও

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪১
ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থদের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেওয়ার ঘটনায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদে। চাল কম পেয়ে দুস্থরা ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইউপি কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গিয়েও পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষুব্ধ জনতা তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখেন।
 
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চাল বিতরণ বন্ধ থাকার পর জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুনরায় চাল বিতরণ শুরু হয়। সেনহাটি ইউপি কার্যালয় সূত্র জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সরকার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের ৫ হাজার ২৯৬জনের মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার ৯২০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়।
 
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া গাজী চাল বিতরণ শুরু করেন। এ সময় ট্যাগ অফিসার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা না থাকায় তার প্রতিনিধি নবির হোসেন ও প্রকল্প অফিসের উপ-সহকারী সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ শুরু হয়।
 
কিন্তু মাথাপিছু ২০ এর স্থলে ১৫ থেকে ১৭ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিষয়টি এক এক করে সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা ইউপি কার্যালয়ের পাশে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনের খোলা জায়গায় জড়ো হতে থাকে।
 
এ সময় অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শম্পা কুণ্ডু ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি নিজেই চাল ওজন করেও তাতে ৩/৪ কেজি করে কম পান। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে তিনি দুস্থ-অসহায়দের লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষণিক সমাধানের দাবিতে তারা তাকে ঘেরাও করে রাখে। পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি সেখান থেকে সেনহাটি ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে দুপুর ১২টার দিকে বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।
 
এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ইট পাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে ইউপি কার্যালয়ে হামলা চালায়। জানালার গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে কোন আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
 
পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুল ইসলাম ও দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমানের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ শুরু হয়।
 
চাল কম দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, যারা চাল কম পেয়েছে তাদের লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, ভিজিএফের চাল কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেনহাটি ইউপি কার্যালয়ে অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে সামান্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও কেউ আহত হয়নি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি