ওবায়দুল কাদের সাহেবরা ১/১১'র পুনরাবৃত্তির পথ প্রশস্ত করছেন: রিজভী

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২০:৪৭
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নানা রকম দুঃস্বপ্নে অস্থির ও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে হরণ করে যে শূন্যতার সৃষ্টি করেছেন তাতে ধেয়ে আসা প্রতিবাদী মানুষের টর্নেডোতে ভয় পেয়ে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা বেসামাল হয়ে পড়েছেন। তাই কখনও ভয়ের কথা বলছেন, কখনও ধমকের সুরে কথা বলছেন। ওবায়দুল কাদের সাহেবরা নিজেরাই নিজেদের অনাচার ও অপকর্মের দ্বারা ১/১১ এর পুনরাবৃত্তির পথ প্রশস্ত করছেন।  
 
শনিবার নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।
 
রিজভী বলেন, শিশু-কিশোররা রাস্তায় নেমেছিল নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনে। এ আন্দোলনের সমর্থনকারীদের বলা হচ্ছে উসকানিদাতা। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, ফেসবুক ব্যবহারকারী, রাজনৈতিক দল- যারা এ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের হিড়িক চলছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়া নজীরবিহীন। আন্দোলনে সমর্থনকারী আলোকচিত্রী, অভিনেত্রী, শিল্পী, কলাকুশলি, লেখক, সাংবাদিক, অভিভাবক কেউ সরকারের নিপীড়ন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। 
 
রিজভী বলেন, আমরা ক্ষতিকর গুজবের পক্ষে নই, তবে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে পা গুড়া করে পঙ্গু করে দেয়া এবং শহীদ মিনারে একজন ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করা কি গুজব? পুলিশ ও হেলমেটধারী সন্ত্রাসীদের একযোগে শিশু-কিশোর ও সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া কি গুজব? এগুলোতো সবার সামনেই ঘটেছে। এদের কেন বিচারের আওতা থেকে দূরে রাখা হয়েছে? 
 
রিজভী বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদকে নোয়াখালির কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার মানিকনগর নিজ বাড়িতে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে দেশের সিনিয়র সিটিজেন বরেণ্য আইনজীবী ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদকে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। শুক্রবার দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর সাথে দেখা করতে গেলে তাদের পুলিশ বাধা দেয় এবং তাঁর বাড়ি ও বাড়ির সামনে থেকে ১০জনকে আটক করে। আজও কোন নেতা-কর্মী তাঁর সাথে দেখা করতে পারছেন না। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নেতা-কর্মীরা বৈঠক করতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। 
 
ইত্তেফাক/এমআই