আমি এখনও নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ: মওদুদ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৩৬
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আমি এখনও নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। পুলিশ আমাকে জানিয়েছে বাড়ি থেকে যেন বের না হই। এখন পর্যন্ত আমার দলীয় ২৯ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে ১১ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের। পুরোনো মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। আমরা সব সময় চেষ্টা করছি সহনশীলতার রাজনীতি করার জন্য। আমার ষাট বছরের রাজনৈতিক জীবনে এ রকম রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখি নাই। আমরা রাজনীতি করি জনগণ ও দেশের কল্যাণের জন্য। রাজনীতি আমাদেরকে একেবারে ব্যক্তি পর্যায়ে ও নিচু পর্যায়ে নিয়ে গেছে। 
 
রবিবার দুপুর ২টায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মানিকপুরস্থ তার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বসুরহাট পৌরসভা যুবদলের সভাপতি শওকত হোসেন সগির, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুল কবির ফয়সল, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান রাজন, বসুরহাট পৌর ছাত্রদলের সভাপতি ওবায়দুল হক রাফেল, সাধারণ সম্পাদক ছালা উদ্দিন সুমন, উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আতোয়ার হোসেন পাভেল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মনছুরুল হক বাবর প্রমুখ।       
 
মওদুদ আহমদ বলেন, ১৯৫৬ সালে ১৬ বছর বয়সে আমি কারাবরণ করেছিলাম। এমন কোন আন্দোলন নাই আমি অংশগ্রহণ করি নাই। আমি আওয়ামী লীগ করি নাই। বঙ্গবন্ধুর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিলেত থেকে আইনজীবী স্যার টমান্স উইলিয়ামকে এনেছিলাম মামলা পরিচালনা করার জন্য। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আর্বিভূত হয়েছেন। বেগম জিয়াকে নিয়ে সমালোচনা করা ছাড়া সরকারের রাতের ঘুম হয় না। তারা ভেবেছিল বেগম জিয়াকে যদি কারাগারে রাখা যায় তাহলে বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। যত অত্যাচার, অবিচার, নির্যাতন, নিপীড়ন, নিষ্পেশন বিএনপিকে করা হোক না কেন, বিএনপি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমাদের প্রধান দাবি হলো ৩টি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। সংসদ রেখে নির্বাচন হতে পারে না।  
 
ব্যারিস্টার মওদুদ আরও বলেন, এই অযোগ্য, অথর্ব, অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন দিয়ে নির্বাচন হবে না। তারা ৫টি সিটি নির্বাচনে প্রমাণ করে দিয়েছে তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাদেরকে পদত্যাগ করতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। দেশে নূন্যতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। এই সরকার পেশীবাদী সরকার, এই সরকার স্বৈরাচারী সরকার।
 
মওদুদ বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সরকার আর কোন আইনি হস্তক্ষেপ না করলে, এ মাসের মধ্যে বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন। নিম্ন আদালতের ক্ষমতা চলে গেছে নির্বাহী বিভাগের কাছে। নিম্ন আদালতের বিচারকরা সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সে জন্য বেগম জিয়ার মুক্তি লাভে বিলম্ব হচ্ছে। যে দিন বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন, সে দিন বাংলাদেশের গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। সরকারের ১০ বছরের অপশাসনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটবে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই