হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে সবুজকে হত্যা করে দুই বন্ধু

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১৯:০৯
বাগেরহাটের চিতলমারীতে নিখোঁজের ৭ দিন পর কলেজছাত্র সবুজের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিতলমারী সদর বাজারের কাছে ওয়াপদা’র ডোবার কচুরিপানার মধ্যে থেকে পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চিতলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 
চিতলমারী থানার ওসি অণুকুল সরকার জানান, গত ১৩ আগস্ট বিকাল সাড়ে চারটার দিকে শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের শিবপুর-কাটাখালী গ্রামের কৃষক পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে সবুজ বিশ্বাস বন্ধুদের ডাকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এদিন বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যান তিনি। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। 
 
খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে এ বিষয়ে পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে চিতলমারী থানায় একটি জিডি করে তার পরিবার। এরপর থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। 
 
মোবাইলের সূত্র ধরে গত শনিবার গভীর রাতে গোপালগঞ্জ শহরের মোহাম্মদ পাড়া এলাকার হাসান মৃধার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ সবুজের দুই বন্ধু লিমন ও সিব্বিরকে আটক করে পুলিশ। তাদেরকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সবুজকে হত্যার কথা স্বীকার করে। 
IMG0
নিহত কলেজছাত্র সবুজ
 
পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি তারা জানায়, ১৩ আগস্ট রাতে চিতলমারী থানা থেকে কিছুটা দূরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় ঠাণ্ডা মাথায় প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয় সবুজকে। এ সময় গালায় রশি দিয়ে শ্বাস রোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে গভীর রাতে লাশ পাশের একটি ডোবায় কচুরির নিচে গুম করে রেখে সবুজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে সিব্বির ও লিমন গোপালগঞ্জ শহরে তাদের আত্মীয় বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। 
 
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত লিমন খান উপজেলার আডুয়াবর্ণি গ্রামের হাসমত আলী খানের ছেলে। তিনি এসএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ও সিব্বির ওই একই গ্রামের ছালাম খানের ছেলে। তিনি এসএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ে। তাদের আটকের সময় সবুজের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। 
 
বাগেরহাট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাৎ হোসেন জানান, প্রেম ঘটিত কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে। এ ঘটনার সাথে কোন প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।  
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ