খাগড়াছড়িতে স্বনির্ভরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ) সমর্থিত তিন সংগঠনের ডাকে খাগড়াছড়ি জেলার নয়টি উপজেলায় অর্ধবেলা সড়ক অবরোধ পালন করা হয়েছে। অবরোধের সমর্থনে জেলার কোথাও পিকেটিং না থাকলেও দূর পাল্লার ও অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সড়ক অবরোধের কারণে কোরবানি পশুর হাটে ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীসহ ঈদের ঘরমুখো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় ৭ জন নিহতের পর সন্ত্রাস নির্মূলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে খাগড়াছড়িতে রবিবার বিকাল থেকে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ এর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকেই স্বনির্ভর বাজারে অধিকাংশ দোকানপাট এখনো বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। আতংকিত লোকজন কোন বিষয়ে কথা বলতেও সাহস করছেন না। কবে নাগাদ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলবে তাও কেউ বলতে পারছেনা।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহম্ম্দে খান সাংবাদিকদের জানান, জেলায় অপ্রীতিকর সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের যান মালের নিরাপত্তা রক্ষায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একযোগে কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবারের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন এডিএম মো. আবু ইউছুপকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবার কথা ছিল। খাগড়াছড়িতে শনিবার দুর্বৃত্ত হামলায় ১৩ জন হতাহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি উত্তরণে প্রশাসন নানাভাবে চেষ্টা চালালেও স্থানীয় উপজাতীয়দের মনে এখনো চরম আস্থাহীনতা কাজ করছে। স্বনির্ভর বাজার ও আশপাশ এলাকায় ও বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানসমূহে এখনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত টহল অব্যাহত রেখেছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
