ঈদ-উল আজহায় দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে বাড়ি ফরতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ায় ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো যাত্রা করছে। রবিবার রাত থেকে বরিশাল নৌ-বন্দরে আসা বেসরকারি লঞ্চগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। রবিবার রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিসি’র দু’টি জাহাজসহ ২৬টি নৌযান ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ যাত্রী নিয়ে বরিশাল নৌ-বন্দরে পৌঁছায়।
যাত্রী বোঝাই এসব লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১৫শ’ যাত্রী হলেও গত রাত থেকে ৭ হাজারের বেশি যাত্রী নিয়ে টার্মিনালে নোঙর করে। ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ যাত্রী বোঝাই এসব লঞ্চে নারী ও শিশু যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সীমাহীন। থেমে থেমে বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে এসব মানুষদের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চের ছাদে আসতে হয়েছে।
বরিশাল নৌ-টার্মিনাল সূত্র জানায়, লঞ্চগুলো যাত্রীবোঝাই করে আসলে এখানকার বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদেরও লাভ হয়ে থাকে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রীবোঝাই করে লঞ্চগুলো টার্মিনালে ভিড়লেও তা দেখেও যেন না দেখার ভান করে কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে এখানকার কর্মকর্তারা গড়ি-মসি করে।
একজন কর্মকর্তা অপরজনের সাথে কথা বলার অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে লঞ্চের ছাদ কিংবা র্যালিংয়ে ঝুঁকি নিয়ে আসা নিয়ে বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের নজরদারী নেই।
যাত্রীরা বরিশালে নামার পরই পড়ছে বাড়তি ঝামেলায়। মধ্যরাত কিংবা ভোররাতে যে সময়ই হোক না কেন বরিশাল নগরীতে রিকশা-অটোরিকশা, আলফা মাহেন্দ্র কিংবা মাইক্রোবাসে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫ গুণ করে।
লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, তারা ঈদ-কোরবানি ব্যতীত সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক কম টাকায় যাত্রী পরিবহন করে থাকেন। কেবল ঈদ-কোরবানি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিয়ে থাকেন। তাদের বাড়তি ভাড়া নেয়ার কোনও সুযোগ নেই।
এদিকে সোমবার নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে হাজার হাজার যাত্রীর ভিড়। পথে পথে এসব যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কোথাও আবার অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন ফেরিঘাটে লক্কর-ঝক্কর ফেরির কারণে লেবুখালী ফেরি, লাহার হাট ফেরিসহ বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে দীর্ঘ লাইন পড়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
