গোপালগঞ্জে ক্লিনিক মালিকের অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৬:২৮
গোপালগঞ্জে ক্লিনিক মালিকের অপারেশনে প্রসূতির (৩০) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সদরের সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটেছে।
 
এ ব্যাপারে ক্লিনিকের মালিক গ্রাম ডা. নুরুল হুদা টুকু ও তার দু’ ছেলে মো. মেহেরাব হোসেন ও  মো. নুরুল অদিকে আসামি করে টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ওই গৃহবধূর ভাই আমিনুল ইসলাম। এ ঘটনায় পুলিশ ক্লিনিক মালিকের ছেলে মো. মেহেরাব হোসেনকে শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে।
 
নিহত গৃহবধূ রেকশনা বেগম টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সদরের কেরালকোপা গ্রামের  মো. আজিজুল মোল্লার স্ত্রী।
IMG0
মামলার বাদী ওই গৃহবধূর ভাই আমিনুল ইসলাম জানান, আমার অন্তঃসত্ত্বা বোনের বাচ্চা ডেলিভারি করার জন্য তাকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় টুঙ্গিপাড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করাই। রাত ৯ টার দিকে ক্লিনিক মালিক টুকু তার দুই ছেলেকে সাথে নিয়ে আমার বোনকে ক্লিনিকের ওটিতে ঢুকায়। তখন ক্লিনিকে কোন চিকিৎসক ছিল না। আমার বোনকে অজ্ঞান করার পর হাত-পা বাধা হয়। অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে আমার বোন অপারেশন টেবিলেই মারা যায়। গ্রাম ডা. টুকুর ক্লিনিকে এর আগে আরো ৪ জন মহিলা সিজারিয়ান অপারেশন করাতে এসে মারা যান। তারা অপারেশন টেবিলে আমার বোনকে হত্যা করেছে। তাই আমি এ ঘটনায় বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছি।
 
ক্লিনিকের মালিক গ্রাম ডা. নুরুল হুদা বলেন, অপারেশন করার সময় আমি ও আমার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দু’ ছেলের সাথে গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. সাধন বসু উপস্থিত ছিলেন। অপারেশনের শেষ পর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে সাধন বসু চলে যান বলে তিনি দাবি করেন। তবে তিনি প্রসূতির হাত-পা বাধার কথা স্বীকার করে বলেন, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় রোগী নড়াচড়া করতে পারে, এ আশংকায় হাত-পা বাধা হয়েছে। রোগী মৃত্যুর কারণ তিনি জানাতে পারেন নি।
IMG1
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ডা. সাধন বসু নামে কোন চিকিৎসক গোপালগঞ্জ জেলায় নেই। ক্লিনিকের মালিক নিজেকে রক্ষায় সাজানো ও মনগড়া চিকিৎসকরে নাম বলেছেন।
 
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম এনামুল কবির বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ক্লিনিক মালিকের ছেলে মো. মেহেরাব হোসেন পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। তারা তিন বাবা-ছেলে মিলে এ অপারেশন করেছে। এ বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা নেই। আর এ অপারেশন করতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই এ ব্যাপারে হত্যা মামলা নেয়া হয়েছে। এর আগে ওই ক্লিনিকে ৪ জন প্রসূতির মৃত্যুর হয়েছে বলে স্থানীয়রা আমাদের জানিয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ক্লিনিকের মালিক টুকু ও তার ছেলে অদিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ