লামায় দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন বিজিবি সদস্যসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে লামা থানায় মামলা হয়েছে। তবে স্থানীয় বিজিবি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলছেন বিজিবির বিরুদ্ধে এ মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিজিবির নামে বদনাম করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। থানা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এ অভিযোগের বিপরীতে বিজিবির কোনো সদস্য জড়িত থাকার সত্যতা মেলেনি।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার আপ্রুচিং মার্মা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ত্রিশডেবা বিজিবি ক্যাম্পের অবস্থান দেড় কিলোমিটার দূরে এবং রামগতি পাড়ার ৫ শত গজের মধ্যে। পোষাক পরিহিত লোকজন এতদূরে গিয়ে এ জাতীয় একটি ঘটনা ঘটাবে তা হতে পারে না। এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
স্থানীয় অধিবাসী লুৎফুর রহমান, মনির উদ্দিন ও আবুল কালাম জানান, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন থেকে বনফুর বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহার করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। পাহাড়ি উক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বনফুর ক্যাম্প প্রত্যাহার হলে হত্যা, খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারবে। তাদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এই ঘটনার জন্ম দিয়েছে।
ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার জানান, বনফুর ত্রিশডেবা বিজিবি ক্যাম্প হইতে এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে জনসম্মুখ দিয়ে গিয়ে পোষাক পরিহিত লোকজন ধর্ষণ করবে- বিষয়টি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। এখানে কোন ধরণের ষড়যন্ত্র রয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি জোনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আসাদুজ্জামান জানান, ত্রিশডেবা ক্যাম্প সরানোর জন্য অনেক ষড়যন্ত্র চলে আসছে। ক্যাম্প না থাকলে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনায় কোন বাধা থাকবে না। সে কারণে সন্ত্রাসী একটি গোষ্ঠী ত্রিশডেবা বিজিবি ক্যাম্পের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
লামা থানা অফিসার ইনর্চাজ আপ্পেলা রাজু নাহা জানান, ধর্ষণের শিকার হওয়া দুই শিশুর এজাহার রের্কড করা হয়েছে। এ ব্যপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
বান্দরবান পুলিশ সুপার জাকের হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, পুলিশ মামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
ইত্তেফাক/নূহু
