যশোরে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূর নাম কল্পনা আক্তার (৩৭)। শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়া হাইওয়ে টাউনের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাট থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে রত্না তার দুই মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী কাজী পলাশ। ঈদের আগে দেশে এলেও কল্পনার সঙ্গে তার মনোমালিন্য থাকায় পলাশ এ বাড়িতে আসেননি।
পুলিশ জানায়, নিহতের দুই মেয়েকে ফালুদার সঙ্গে চেতনানাশক কিছু খাইয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। তারপর পাশের ঘরে তাদের মাকে খুন করা হয়। খুনিরা প্রথমে কল্পনাকে স্লাই রেঞ্জ দিয়ে আঘাত করে। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ওই ঘর থেকে পুলিশ কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবলেট ও তা সেবনের সামগ্রি উদ্ধার করে।
কোতয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানান, তারা খুনের কারণ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে এখনই কিছু জানাতে রাজি নয়। হত্যার ঘটনায় হৃদয় নামে নিহতের এক ভাগ্নেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
নিহতের মেয়ে উষা ও তৃষ্ণা জানিয়েছে, খুনি তাদের মায়ের পূর্ব পরিচিত। বৃহস্পতিবার লোকটি তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। রাতে দুই বোনকে ফালুদার সঙ্গে চেতনানাশক কিছু খাইয়ে পাশের ঘরে অচেতন করে আটকে রাখে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জ্ঞান ফিরে তারা মাকে ডাকতে থাকলে ওই লোকটি দরোজা খুলে উষা ও তৃষ্ণাকে মারপিট করে পালিয়ে যায়। পরে ওই ঘরে তারা মায়ের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে।
ভবন মালিক ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, তার ভবনের পাশেই কল্পনা আক্তারের প্লট রয়েছে। সেখানে বাড়ি নির্মাণের সুবিধার্থে মাসছয়েক আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন তিনি। তাদের বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার নিয়ামতপুরে।
ইত্তেফাক/নূহু
