বোঝা হয়ে আর থাকব না ফিরতে চাই নিজ দেশে

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৮, ০১:৩১

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতের ঘটনার এক বছর পূর্তি হলো গতকাল শনিবার। এ উপলক্ষে মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি ও দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার দাবিতে রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল করেছে। গতকাল শনিবার কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার প্রায় সবক’টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব কর্মসূচি পালিত  হয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে এখন থেকে ২৫ আগস্টকে রোহিঙ্গাদের জন্য কালো দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন নেতারা। রোহিঙ্গা নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ আমাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা কতদিন এদেশে থাকব? আমরা দিনে দিনে এদেশের বোঝাতে পরিণত হচ্ছি। তাই আমরা ফিরে যেতে চাই নিজ দেশে। আন্তর্জাতিক মহলকে অনুরোধ, মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন, যাতে সরকার দ্রুত আমাদের ফিরিয়ে নেয়। নিরাপদ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্ব করতে মিয়ানমার সরকার টালবাহানা শুরু করেছে। বিশ্বমোড়লরা কেন মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর বিষয়ে নিশ্চুপ থাকছে তা আমাদের মাথায় ঢুকছে না।

গতকাল সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার কুতুপালং বাজারের সামনের প্রধান সড়কে মাথায় লাল ফিতা বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা। এছাড়া বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে মধুছড়া, লম্বাশীয়া, জামতলী, তাজনিমারখোলাসহ আরও কয়েকটি ক্যাম্পে। এসময় রোহিঙ্গারা দাবি করেন, সম্মানের সঙ্গে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে। নির্যাতনের ঘটনার উপযুক্ত বিচার করতে হবে। বিক্ষোভ মিছিলে থাকা মো. আয়ুব নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আমরা এই বিক্ষোভ করেছি। আমরা কি চাই তা জানানোর জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। তিনি আরো বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। এ দিনটিকে আমরা কালো দিবস হিসেবে পালন করব। এই দিনে আমরা সব ধরনের কাজকর্ম থেকে বিরত থাকব।

এদিকে, সকাল ৯টা হতে টেকনাফের রইক্ষ্যং পুটিবনিয়া, হ্নীলার আলীখালী, লেদা, নয়াপাড়া, শালবন, জাদিমোরা, দমদমিয়ায় ও বাহারছড়ার শামলাপুর বস্তিতে রোহিঙ্গারা মিছিল-সমাবেশ করেছে। ক্যাম্পে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চাপে তারা কোণঠাসা হয়ে থাকলেও পুটিবনিয়া এবং শালবনে রোহিঙ্গাদের বিরাট বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

উখিয়ার বালুখালী ডি ৫ ব্লক মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে দ্যা ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন। এর আগে শুক্রবার রাতে আয়োজক কমিটি ক্যাম্পে মাইকিং করে সভায় রোহিঙ্গাদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানায়। সকাল ৮টা থেকে দলে দলে রোহিঙ্গারা সভাস্থলে আসতে শুরু করলে রোহিঙ্গাদের এ প্রতিবাদ সমাবেশ মহাসমাবেশে পরিণত হয়।

ঈদের আমেজ ছিল না

এদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর রোহিঙ্গারা এই প্রথম ঈদুল আজহা পালন করলো। কিন্তু তাদের ঈদে ছিল না কোনো আনন্দ-উত্সব। রোহিঙ্গাদের পরিবার প্রতি পাঁচ কেজি করে কোরবানির মাংস বিতরণের কথা থাকলেও দুই-তৃতীয়াংশ পরিবার মাংস পায়নি। যারা পেয়েছে তাও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। যে কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদের আমেজ দেখা যায়নি। গত শুক্রবার সকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা মাঝির সঙ্গে আলাপ করা হলে তারা এসব কথা বলেন।

ইত্তেফাক/নূহু