মির্জাপুরে ধেরুয়ায় ও কালিয়াকৈরের লতিফপুরে রেলওয়ের দুটি ওভার ব্রিজ খুলে দেওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার রাস্তায় ঈদের আগে ও পরে যানজট দেখা যায়নি। এবারের ঈদে যানজট মুক্ত এবং কম সময়ে বাড়ি ফিরতে ও কর্মস্থলে ফিরে আসতে পেরে তাদের স্বস্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা।
দুই ওভার ব্রিজসহ ছোট বড় মিলে ২৭ ব্রিজ কালভার্ট চালু করায় যানবাহন চলাচল আরও সহজ হয়েছে।তবে গাজীপুরের চৌরাস্তা থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় এবং চন্দ্রা মোড় থেকে নবীনগর, বাইপাইল থেকে উত্তরা এবং নবীগর থেকে গাবতলী রোডের কিছু কিছু অংশে যানজট রয়েছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।
রবিবার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গিয়ে দেখা গেছে যানজট নেই। পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরলসভাবে মহাসড়কে কাজ করে যাচ্ছেন। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ একটু বেশি হলেও যানজট নেই।
যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর রোজা ও কোরবানির ঈদ এলেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হজ। ঈদের আগে ও পরে ৫-৬ দিন এই যানজট স্থায়ী থাকে। কিন্তু এ বছর হয়েছে পুরোটাই উল্টো।চন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত চার লেনের কাজ মোটামুটি সমাপ্তির পথে। এর মধ্যে দুটি ওভার ব্রিজ ও ছোট বড় মিলে ২৭ ব্রিজের দুই পাশ খুলে দেওয়ায় দ্রুত গতিতে চলছে দুদিক থেকে যানবাহন। এছাড়া চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত বসানো হয়েছে মোবাইল কোর্ট ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছেন, জেলা ও থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
গত ১৭ আগস্ট থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ রোডে কাজ করছেন। টাঙ্গাইল জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সদস্যবৃন্দ এবং পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন যানজটমুক্ত রাখার জন্য বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের নির্মাণকারী (ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান) কনসালটেন্ট কোং লিমিটেড এর জুনিয়র প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ বলেন, চারটি প্যাকেজের অধীনে এ মহাসড়কের চার লেনের কাজ হচ্ছে। প্রতিটি প্যাকেজের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জমি অধিগ্রহণ, রাস্তার দুপাশের স্থাপনা ভাঙ্গা, মাটি ভরাট, ব্রিজ কালভাট নির্মাণ ও মহাসড়কের উপর পিচ ঢালাইসহ রাস্তার মাঝখানে আইল্যান্ড নির্মাণের কাজও প্রায় শেষের দিকে।
সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) মো. আফসার উদ্দিন খান ও মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে যানজট নিরসনের জন্য রেলওয়ের দুটি ওভার ব্রিজ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ-কালভার্টগুলো যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চারলেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে হওয়ায় এখন থেকে এ মহাসড়কে যানজট থাকবে না বলে তারা আশা করছেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
