‘৪০ বছর ধইড়া গরুর ব্যবসা করতাছি, এমন অবস্থা কোন দিনও হয় নাই। ১৮ লাখ টেহার ২০টা আইড়া গরু এবার ঢাকার কোরবানির আটে নিয়া গেছিলাম, এ্যাকখানও বেচপার নিগা পাড়ি নাই। ব্যাপাক বাড়িতে ফিরা নিয়া আইছি। যাতায়াত আর আটে আরো ১ লাখ টেহা খরচ ওইছে। এহন এই গরু গুনা নিয়া কি করমু? ১০ লাখ টেহা লোন কইড়া গরু কিনছিলাম। হে গুনাও পরিশোধ করমু কিবা কইড়া। আবার বাড়িতে আনা ২০টা পালব্যার নিগাও প্রতিদিন ২/৩ আজার কইড়া টেহা খরচ ওইত্যাছে, আমার এহন কি ওইবো। চিন্তায় মরণ ছাড়া উপায় নাই।’
ঢাকার কোরবানি হাটে অবিক্রীত গরু বাড়িতে ফিরিয়ে আনা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার খোকশাবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুস ছালাম ব্যাপারী এভাবেই দুঃখ ও হতাশার কথা জানালেন।
তার মত করে ঢাকায় কোরবানির পশু বিক্রিতে বিপর্যয়ের কথা জানান গ্রামটির সন্তোষ আলী ব্যাপারী ও শাহ আলম ব্যাপারী। তারা বলেন, দুই লাখ টাকায় কেনা গরু ঢাকায় ১ লাখ ২০/৩০ হাজার টাকার বেশির দাম হয়নি। তাই ২ থেকে ৩টি বিক্রি করা ছাড়া ১৫/২০টি করে গরু বাড়িতে ফেরৎ নিয়ে আসতে হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, এবছর এনায়েতপুর থানার গোপিনাথপুর, খোকশাবাড়ি, সৈয়দপুর, পাঁচিল, জালালপুর, বেতিল, গোপালপুর নওহাটা চর, স্থলচরসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রাকৃতিক পরিবেশে অন্তত ৩০/৪০ হাজারের মত পশু মোটাতাজা করা হয়। এর মধ্যে খামারিদের কাছ থেকে বিভিন্ন দামে কিনে ৪ হাজারের মত পশু ঢাকার কোরবানির হাটগুলোতে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন ব্যাপারীরা। তবে ৭/৮’শ এর মত বিক্রি হলেও বাকি সব ফিরিয়ে নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে এনায়েতপুর হাট বনিক সমিতির সভাপতি মির্জা ছানোয়ার হোসেন বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব ব্যাপারী জানান, আমাদের এলাকার অন্তত ৪/৫শ ব্যাপারী প্রতিবছর ঈদের সামনে গরু বিক্রি করতে ঢাকায় নিয়ে যায়। কিছু না কিছু লাভও করছে প্রতিবার। কিন্তু এবারই চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ফিরে এসেছে তারা। এদের তালিকা করে সরকার যদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতো তবে পরিবার পরিজন নিয়ে আবারো ঘুরে দাড়াতে পারতো।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
