নড়াইলে শিশু রোকসানার ওপর নির্যাতনকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৮, ১৬:২৫
 
ঢাকার ওয়ারী এলাকায় বাসা বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে নিয়ে নড়াইলের ১০ বছরের এক কন্যা শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতনকারীদের  দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার সকালে হিউম্যান রাইটস  ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ) নড়াইল জেলা শাখা ও নড়াইলের সচেতন নাগরিকবৃন্দের আয়োজনে নড়াইলের আদালত সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
 
মানববন্ধন চলাকালে নির্যাতনকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে  বক্তব্য রাখেন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ) নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএ মতিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পরিতোষ কুমার বাগচী, জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট রওশান আরা লিলি, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকী, সিনিয়র সাংবাদিক সাথী তালুকদার, জাতীয় মহিলা সংস্থা, নড়াইল জেলা শাখার চেয়ারম্যান সালমা রহমান কবিতা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আঞ্জুমান আরা, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ) এর সাধারণ সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে রবিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ইউএস বাংলা গ্রুপের ডিএমডি মাহাবুব ঢালী’র সার্বিক সহযোগিতায় রোকসানার সুচিকিৎসার জন্য নড়াইল হাসপাতাল হতে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
 
পরে নড়াইলের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নড়াইলে শিশুর শারীরিক নির্যাতন ও শিশুধর্ষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রায়শই এঘটনা ঘটে আসছে। নড়াইলে এ যাবতকাল ঘটে যাওয়া নির্যাতনকারীদের তেমন কোন উল্লেখযোগ্য শাস্তি না হওয়ায় অমানবিক নির্যাতন প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। অতিসম্প্রতি নড়াইলের লোহাগড়ার বাহিরপাড়া গ্রামের দীনমজুর রাসেল শেখের মেয়ে শিশু রোখসানাকে (১০) ঢাকায় এক ব্যবসায়ী আসাদুল্লাহর বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। গত ১৭ আগস্ট আসাদুল্লাহর ভাইয়ের সংবাদের ভিত্তিতে অজ্ঞান অবস্থায় ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল হতে উদ্ধার করা হয়। রোকসানার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট হতে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত নড়াইল সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আসছিলো।
 
এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় একটি মামলাও হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানান লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বিশ্বাস।
 
উল্লেখ্য, এ বছরের জানুয়ারি মাসে শিশু রোকসানাদের প্রতিবেশী সালেহা বেগম রোখসানাকে ঢাকার ওয়ারীতে একটি শিশুকে দেখাশোনার জন্য ব্যবসায়ী আসাদুল্লাহর বাসায় নিয়ে যায়।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ