সাভারে কলেজ ছাত্র মারুফ হত্যা: ধরাছোঁয়ার বাইরে খুনিরা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৮, ১৮:২১
সাভারে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত কলেজ ছাত্র মারুফ খানের (২০) মৃত্যুর ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সিসিটিভি ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়ার পরও প্রধান আসামি মঞ্জুসহ তার সহযোগিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামিরা প্রকাশ্যে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ বলছে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আসামিরা মামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের বিভিন্ন হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। 
 
২১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে সাভার পৌর এলাকার রাজাবাড়ি মহল্লায় এক তরুণীকে উক্ত্যক্ত করে এলাকার চিহ্নিত বখাটে মঞ্জু ও তার সহযোগীরা। এ সময় ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে সদ্য এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করা মারুফ ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করে এবং ওই তরুণীকে নিরাপদে চলে যেতে সাহায্য করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী মঞ্জুর নেতৃত্বে  শ্যামল, প্লাবন, মমিন, শামীম, রইছ, আসাদুল, মুক্তাদিন, ইমরানসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী সন্ধ্যায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে মারুফকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারুফের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পরদিন নিহত মারুফের ভাই লুৎফর রহমান খান মানিক বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করেন। 
 
নিহত মারুফের বড় ভাই মামলার বাদী অভিযোগ করে বলেন, খুনিরা এলাকার চিহ্নিত। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলার সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়ভীতি, হুমকি দিচ্ছে। ৬দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও হত্যাকারীদের গ্রেফতার করছে না। 
 
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির জানান, কলেজ ছাত্র হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।  
 
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সাভারের ব্যাংক কলোনি মহল্লায় এক স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় একই গ্রুপ (মঞ্জু গ্রুপ) তিন শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করলে থানায় মামলা হয়। এরপরও তারা স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের ইভটিজিং করেই আসছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই