বগুড়ায় বাঙালী নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ শেষ

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৬
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের পোড়াপাইকর এলাকায় বাঙালী নদীর ভাঙন রোধে নদীর ডান তীর সংরক্ষণ কাজ শেষ হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ৩ কোটি ৯০ লাখ ৯৪ হাজার ব্যয়ে এই তীর সংরক্ষণ কাজ করা হয়েছে।
 
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) এলাকার এমপি আব্দুল মান্নানের প্রচেষ্টায় সোনাতলা উপজেলার পোড়াপাইকরসহ ১৮টি পয়েন্টে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই পোড়াপাইকর নামক স্থানে নদী ভাঙন রোধে কাজ শেষ হয়েছে।
 
এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘ প্রায় ১৪/১৫ বছর যাবত ধরে বাঙালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছিল খোসকাতলী গ্রামসহ আশপাশের ৭/৮টি গ্রাম। সেই সঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ তাদের বসতবাড়ি, গাছপালা ও জায়গা জমি নিয়ে নদী ভাঙন আতংকে দিনাতিপাত করছিল।
 
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ ৯৪ হাজার ব্যয়ে এই কাজ করা হচ্ছে।  পোড়াপাইকর নামক স্থানে বাঙালী নদীর ডান তীর সংরক্ষণ কাজের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা প্রকল্পের অধীনে সংশ্লিষ্ট স্থানে ৫’শ ২৫ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করে ঢাকার নূনা ট্রেডার্স। নদী তীর সংরক্ষণের জন্য ১৮ হাজার ৪১টি বালু ভর্তি জিও ব্যাগ এবং বিভিন্ন পরিমাপের ৮২ হাজার ৩’শ ৭৬টি সিসি ব্লক স্থাপন করা হয়েছে। কাজটি শুরু করা হয়েছিল গত বছরের  হয় ১ জুন।
 
পোড়াপাইকর এলাকার লুৎফর রহমান, রফিকুল ইসলাম, সাজু মিয়া, সাব্বির রহমান জানান, দীর্ঘদিন যাবত বাঙালী নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছিল পোড়াপাইকর ও খোসকাতলী গ্রামটি। বর্তমানে নদীর তীর সংরক্ষণের কাজের মধ্যে দিয়ে ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে নদীকূলীয় লোকজনের মধ্যে এখন স্বস্তি ফিরে এসেছে।
 
আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এলাকার বর্তমান এমটি আব্দুল মান্নান জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। সারাদেশের ন্যায় সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অচিরেই সোনাতলার আড়িয়ারঘাট থেকে সারিয়াকান্দি পর্যন্ত আরও ১৮টি পয়েন্টে নদী ভাঙনের কাজ শুরু হবে। ফলে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি বাঙালী নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ