অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাটহাজারীর ত্রিপুরা পল্লীতে কয়েকদিনের ব্যবধানে চারজন শিশুর মৃত্যুর খবর দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর অবশেষে আরো ২২ জন আক্রান্ত শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার বিকালের দিকে তাদের হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করানো ২২ জন শিশুর মধ্যে তিন জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
জানা যায়,চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ দক্ষিণ উদালিয়ার সোনাইরকুলের দূর্গম ত্রিপুরা পল্লীতে ২৬ আগস্ট সকালে অন্ন বালা ত্রিপুরা (৭), ২৪ আগস্ট সম রায় ত্রিপুরা (৩) ও ২১ আগস্ট একই দিনে অন্ন রায় ত্রিপুরা (৫) এবং কিশা মনি ত্রিপুরা (৩) নামের দুই শিশুসহ মোট চার শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার উননেছা শিউলী সাথে সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকার্তা (টি এইচ ও) ডাঃ. আবু সৈয়দ মোঃ ইমতিয়াজ হোসাইনকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেন।
পরে টিএইচও এর নেতৃত্বে মোট ৬জনের একটি চিকিৎসক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আক্রান্ত শিশু সোনালি চাকমা (৪), মেনসন চাকমা (৫), গোপাল চাকমা (২), সুনীল ত্রিপুরা (৫), স্বপ্না ত্রিপুরা (১), রিপন ত্রিপুরা (১), রতন ত্রিপুরা (৩), রত্না ত্রিপুরা (২), ইমারানী ত্রিপুরা (৮), বিজলি ত্রিপুরা (৭), কিরণমালা ত্রিপুরা (১০), বিজয় ত্রিপুরা (৬), সীমারানী ত্রিপুরা (৪), লক্ষ্মণ ত্রিপুরা (৩), শুভরানী ত্রিপুরা (১), গীতারানী ত্রিপুরা (৩), গুনাধর ত্রিপুরা (৬), সুধান্দ ত্রিপুরা (৪), রনি ত্রিপুরা (৭), শিমুল ত্রিপুরা (৫), রতন ত্রিপুরা (৫) ও সুমুন ত্রিপুরাকে (১০) দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে আক্রান্ত রোগীদের দেখতে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান চট্টগ্রাম বিভাগের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। তিনি ইত্তেফাককে জানান, আমরা এ ধরনের রোগ নির্ণয় করতে না পারায় সোমবার ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবেন এবং তারা রোগ নির্ণয় করতে আক্রান্ত শিশুদের রক্তের নমুনা ঢাকায় নিয়ে যাবেন।
স্থানীয় কয়েকজন ত্রিপুরা পল্লীবাসী ইত্তেফাককে বলেন, এভাবে একের পর এক শিশু মৃত্যু ঘটনায় ত্রিপুরা এলাকার পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতংক দেখা দিয়েছে। এ ত্রিপুরা পল্লী দুর্গম এলাকায় হওয়াতে এ পল্লীর জনগন নানা ধরনের সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দুর্গম ত্রিপুরা পল্লী থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পায়ে হেটে উদালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে যেতে অক্ষম অনেকেই তাই তারা প্রাথমিক স্বাস্থ্য জ্ঞান থেকেও অনেক দূরে। তাদের দেখারমত কেউ নেই বললেই চলে।
স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভের সঙ্গে জানান, এ দুর্গম পল্লীতে প্রায় ৫২টি পরিবারের প্রায় ৩ শত ৭০ জন লোকের বসবাস হলেও এখানে কোন স্বাস্থ্য কর্মী আসে না। অনেক আগে একজন স্বাস্থ্য কর্মী এসেছিলেন মাত্র একদিন, তবে আজ পর্যন্ত আর কোনো স্বাস্থ্যকর্মী এখানে আসেনি। এমনকি স্থানীয় ইউপি মেম্বারও না। তারা এ দুর্গম ত্রিপুরা পল্লীতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা সহ সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়ার জোর দাবী জানান।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকার্তা (টিএইচও) ডা. আবু সৈয়দ মো.ইমতিয়াজ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, গুরুতর অসুস্থদের রক্তের নমুনা নিয়ে ঢাকার আই,ই,ডি,সি,আর এ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তবে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। সোমবার স্বাস্থ কমপ্লেক্সের একটি টিম ত্রিপুরা পল্লীর প্রতিটি ঘরে গিয়ে তাদের সেবা চিকিৎসা দিবেন।
ইত্তেফাক/কেআই
