নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর ধুকুন্দি গ্রামের গৃহবধূ পারভীনের মৃত্যুর ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও উদঘাটন হয়নি মৃত্যুরহস্য। পারভীনের স্বামীর বাড়ীর লোকজন এটিকে বিষপানে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও পারভীনের বাবার বাড়ির স্বজনদের অভিযোগ হত্যা। স্বামী ও বিয়ের উকিল কর্তৃক ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ অবস্থায় পালিয়ে যায় পাষণ্ড স্বামী মোশারফসহ তার পরিবারের লোকজন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ বিবাহের ৪ মাস না পেরোতেই স্বামীর বাড়ির লোকজন পারভিনকে হত্যা করেছে।
জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চর মরজাল গ্রামের সফর আলীর কন্যা পারভীনের বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের চর ধুকুন্দি গ্রামের মোশারফের সঙ্গে। বিয়ের প্রথম দিকে সুখে শান্তিতে থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে নানা অজুহাতে পারভীনের ওপর চলে অত্যাচার নির্যাতন।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোশারফের বড় দুই ভাইয়ের স্ত্রীও এ বাড়িতে অত্যাচার নির্যাতনের মধ্য দিয়েই সংসার জীবন অতিবাহিত করছেন। পারভীন ছিল কিছুটা প্রতিবাদী। তাই পারভীনের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালালে সে প্রতিবাদ করতো। এ কারণে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে স্বামী মোশারফ ও শাশুড়ি হাসেনাসহ পরিবারের লোকজন। কিন্তু পারভীন সংসার ছেড়ে চলে আসতে রাজি হয়নি। তাই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে মোশারফ ও তার পরিবারের লোকজন।
এলাকার লোকজন জানায়, তাকে একটি ঘরে তিনদিন তালাবদ্ধ করে রেখে তার মুখ থেকে জবানবন্দী নেওয়া হয় ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’। এরপর গত ২০ আগস্ট পারভীনের বিষপানে মৃত্যু হয়। গুরুতর অবস্থায় নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে পারভীন আত্মহত্যা করেছে বলে পারভীনের পিতা মাতাকে জানানো হয়। পারভীনের সহজ সরল পিতা সফর আলী হাসপাতালে উপস্থিত হলে স্বামী মোশারফ এবং বিয়ের উকিল দুজনে সফর আলীকে বলে আপনার মেয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এখন ময়নাতদন্ত হলে আপনার মেয়ের লাশ কাটা হবে। তাই এতসব ঝামেলা না করে এই কাগজে একটা স্বাক্ষর দেন যাতে লাশ আমরা ময়নাতদন্ত ছাড়া নিয়ে যেতে পারি।
কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সফর আলীর কাছ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের আবেদনে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় সফর আলীর সঙ্গে আসা স্বজনদের সন্দেহ হয়। সেই আবেদনটি মোশারফের হাত থেকে নিয়ে যায় সফর আলীর সঙ্গের লোকজন। এরপর পালিয়ে যায় মোশারফ ও তার বাড়ির লোকজন।
পরে নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ নরসিংদী জেলা হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার এ বিষয়ে রায়পুরা প্রেস ক্লাবে এসে ঘটনার বর্ণনা জানালে রায়পুরা প্রেস ক্লাবের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। কিন্তু মোশারফের পরিবারের লোকজন বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ওসি মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারছি না। রিপোর্ট হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
