কেরানিগঞ্জের শিক্ষার্থীর রাজাপুরে রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৩৩
ঝালকাঠির রাজাপুরে ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসে রিমা আক্তার (১৪) নামের ঢাকার স্কুল শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলার দক্ষিণ আংগারিয়া গ্রামের নিহত স্কুল শিক্ষার্থীর নানা মোতালেব সরদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রিমা আক্তার উপজেলার দক্ষিণ আংগারিয়া গ্রামের মোঃ মীরন তালুকদারের বড় মেয়ে ও ঢাকা দক্ষিণ কেরানিগঞ্জের চুনপুটিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী।
 
পরিবারের লোকজন স্কুল শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের চেষ্টা করায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত রিমা আক্তারের মৃত্যু নিয়ে নিহতের পরিবার ও এলাকার বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। কেউ বলছে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আবার কেউ বলছে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
 
অভিযোগ উঠছে একটি মহল ওই কিশোরিটিকে হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজাপুর থানা পুলিশ হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। 
 
এলাকাবাসী জানায়, রিমা আক্তার তার পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় থেকেই লেখাপড়া করে। গত ২০ আগস্ট ঈদের ছুটিতে সে তার পরিবারের সঙ্গে দাদার বাড়িতে বেড়াতে আসে। রিমার দাদা বাড়ি ও নানা বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় ঘটনার আগের দিন সে তার পরিবারের সঙ্গে নানার বাড়িতে যায়। ওইদিন রাতে নিহতের বাবা-মা রিমাকে গালমন্দ করেছে বলে বলে অভিযোগ আছে। গালমন্দের কারন কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।
 
কিভাবে মৃত্যু হয়েছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে না পারলেও রাজাপুর হাসপাতালে লাশের সুরতহালের সময় তার বাম পায়ে একাধিক সন্দেহজনক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করলে জিহ্বা বের হয়ে আসবে, হাতের কনুই ও গোঁড়ালি থেকে নিচের দিকে রক্ত জমে কালো হয়ে যাবে। হাত-পা ছড়ানো থাকবে। কিন্তু রিমার হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল। মুখমন্ডল ছিলো স্বাবাভিক, সাধারণত শ্বাসরোধ হলে এ ধরনের অবস্থা হওয়ার কথা না। তার মুখে কোনো স্যালাইভার (লালা) চিহ্ন ছিল না। 
 
এদিকে পরিবারের দাবি, তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা কারণ পরিবারসহ স্বজনদের কাছে জানতে চাইলে পরিবারের লোকজন এ বিষয়ে কোন কথা না বলে বারবার এড়িয়ে গিয়ে এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। অভিযোগ উঠছে এ ঘটনা মোটা অংকের অর্থ দিয়ে ধামাচাপা দিতে পরিবার ও স্বজনরা মরিয়া। 
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহতের এক আত্মীয় জানান, ঢাকায় রিমার প্রেমঘঠিত ব্যাপার নিয়ে রাতে বাবা-মার সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে অবাধ্য সন্তানকে বাধ্য করার মতো প্রয়াসে নির্যাতনের মধ্য দিয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে। 
 
এ ব্যাপারে রাজাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ শামসুল আরেফিন জানান, পারিপার্শ্বিক আলামত, পরিবার ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা না আত্মহত্যা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ। তিনি জানান, মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু