চরভদ্রাসনে খাজনা নেওয়া ও উচ্ছেদ পাঁয়তারা বন্ধে মানববন্ধন-স্মারকলিপি

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৫১
পদ্মা নদীর ভাঙন কবলিত ফরিদপুরের চরভদ্রাসন সদর বাজার কোল পারে রেকর্ডীয় মালিকানা জমির খাজনা নেওয়া ও ব্যবসায়ীদের কয়েক যুগের পুরোনো দোকান ঘর উচ্ছেদের পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে সদর হাট/বাজার রক্ষা কমিটি ও সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা। বুধবার সকাল ১১টার দিকে এ মানববন্ধন করা হয়।
 
ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি জানতে পারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভূমি এর নির্দেশনা অনুসারে সদর বাজারের কোলপারে ব্যক্তিমালিকানা জমিতে গড়ে ওঠা ৭০টি দোকান ঘর উচ্ছেদের একটি প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে চরভদ্রাসন ভূমি অফিস। তারই প্রতিবাদ জানিয়ে দোকান ঘড় রক্ষায় ঐ দিন উপজেলা পরিষদের সামনে এক ঘণ্টার মানববন্ধনে অংশ নেন বাজারের প্রায় ৫শতাধিক ব্যবসায়ী। এ সময় ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, প্রায় পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে তারা ক্রয়  সূত্রে ১১ নং চরভদ্রাসন মৌজার এস এ ও দিয়ারা রেকর্ডীয় জমিতে ঘর তুলে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। পদ্মা নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে শেষ পুঁজি দিয়ে বাজারের কোল পার এলাকায় দলিলমূলে ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে তারা যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে তা উচ্ছেদ না করে খাজনা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান তারা। ব্যাবসায়ীরা বলেন, তাদের অবস্থিত দোকানগুলো মূলত রেকর্ডীয় নাল শ্রেণিভুক্ত কিন্তু তাদের সিকস্তি ভূমি দেখিয়ে ১নং খতিয়ানভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া  ২০১৬ সাল পর্যন্ত অনেকের খাজনা দেওয়া রয়েছে এবং অনেক ভুক্তভোগী ও জমির মালিক আদালতের সরণাপন্ন হয়ে ডিগ্রি প্রাপ্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেকের ফরিদপুর জোলা জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। কিন্তু তাদেরকেও উচ্ছেদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 
IMG0
বর্তমানে পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা আক্ষেপ করে বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সদর বাজারের একশত ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করলে নিঃস্ব হয়ে পড়ে ব্যবসায়ীরা। পরে সমপরিমাণ জায়গা সরকারের নামে লিখে দিয়ে সেই জায়গা বন্দবস্ত নেয় তারা। এই মুহূর্তে ৭০টি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করলে দোকান মালিকদের সঙ্গে প্রায় চার শতাধিক পরিবারের রুটি রুজি বন্ধ হয়ে যাবে, তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ না করে যথাযথ তদন্ত করে খাজনা নেওয়ার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন ব্যবসায়ীরা। 
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে স্মারক লিপি গ্রহণ করেন ইউএনওর সিএ বিদ্যাধর মন্ডল। এ সময় অন্যান্যোর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চরভদ্রাসন হাট বাজার বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কালাম মাস্টার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার আলী মোল্যা, মো. মোতালেব মোল্লা, ব্যবসায়ী ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা ও শামসুদ্দিন মোল্লা প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/এমআই