গোপালগঞ্জে আমন ধান রক্ষায় জমিতে পাচিং পদ্ধতিতে গাছের ডাল রোপন করা হয়েছে। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে কৃষক পোকার আক্রমন থেকে ধান রক্ষা করে বিষমুক্ত ধান উৎপাদন করছেন। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করে লাভবান হচ্ছেন।
আজ বুধবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার একটি পৗরসভা ও ২১ টি ইউনিয়নের আমন ধান রক্ষায় প্রতিটি ক্ষেতে একযোগে পাচিং পদ্ধতিতে ডাল রোপন করে কৃষি বিভাগ পাচিং উৎসব করেছে।
পাচিং উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি বিভাগের ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কিংকর চন্দ্র দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের ডিডি সমীর কুমার গোস্বামী ও জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হরলাল মধু।
পোকা মাকড়ের আক্রমন থেকে ধান রক্ষা ও উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করতেই পাচিং পদ্ধতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, এ বছর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৬ শত হেক্টর জমিতে রোপা ও বোনা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। ধান গাছের এখন বাড়ন্ত সময়। এ সময়ে পোকার আক্রমন শুরু হয়। ক্ষেতে গাছের ডাল পুতে দিলে ডালে পাখি বসে। পাখি ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলে। এতে পোকা মাকড় বংশ বিস্তার করতে পারে না। ফলে ক্ষেত পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা পায়। পোকা মাকড় দমনে কৃষকে বাড়তি ব্যায় করতে হয় না। ফলে কৃষকের ধান উৎপাদন খরচ সাশ্রয় হয়।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের কৃষক জাবের আলী চৌধূরী বলেন, এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে আমরা বোরো মৌসুমে সুফল পেয়েছি। ধানে পোকার আক্রমন হয়নি। ফলে কীটনাশক কিনতে হয়নি। বিষমুক্ত ধান উৎপাদন করতে পেরেছি। এতে আমাদের আনেক দিক দিয়ে লাভ হয়েছে। তাই এবারও কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমরা এ পদ্ধতি গ্রহণ করেছি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পাচিং পদ্ধতিতে কৃষকের ক্ষেতে পোকার আক্রমন হয় না। এ কারণে কৃষক কীটনাশক ব্যবহার করেননা। কৃষক বিষমুক্ত নিরাপদ ধান উৎপাদন করে লাভবান হন।
ইত্তেফাক/কেকে
