গাবতলীতে ৮৬টি স্বর্ণের বারসহ গ্রেফতার ৫

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ২০:১৯
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রেজাউল (৩৫), মো. ওলিয়ার (৫০), ওলিয়ার রহমান (৩০), ওহিদুল ইসলাম (৩৪) ও মো. বিল্লাল হোসেন (৩৫)। তাদের কাছ থেকে ১১ কেজি ওজনের ৯৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে দুইবার স্বর্ণের বার নিয়ে যশোর বেনাপোলে যেতেন। আকাশপথে এই স্বর্ণের বারগুলো দেশে আনা হতো। পরে তাদের দিয়ে স্বর্ণের বারগুলো ভারতে পাচার করা হতো। বিনিময়ে তারা যাতায়াতসহ ৭ হাজার টাকা পেতেন। 
 
বুধবার বিকালে কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান এ সব তথ্য জানান।
 
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের এই অধিনায়ক বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে ঈগল পরিবহন থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছে থাকা জুতার ভেতর থেকে অভিনব কৌশলে রাখা ৯৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। চারজনের জুতার ভেতর থেকে ৮০টি এবং একজনের জুতার ভেতর থেকে ১৬টি বার উদ্ধার করা হয়। বারগুলোর ওজন ১১ কেজি ১৩৬ গ্রাম। এর মূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।
 
র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, পুরান ঢাকা থেকে তারা স্বর্ণের বারগুলো নিয়ে বাসে করে বেনাপোলে যায়। একজন ফোন করে বললে তারা পুরান ঢাকায় যায়, সেখানে জুতা পরিবর্তন করে স্বর্ণের বার রাখা জুতাগুলো পড়ে চলে যায়। বেনাপোলেও কোনো একটি ঘরে তারা বারগুলো রেখে যায়। মূল হোতারা কখনোই তাদের সাক্ষাৎ করতে আসে না। তবে স্বর্ণের বারগুলো ভারতে পাচার করা হয় বলে জানিয়েছেন গ্রেফতারকৃতরা। 
 
তারা বলেন, প্রতি সপ্তাহে দুই বার ঢাকা থেকে বিশেষ কায়দায় স্বর্ণের বার নিয়ে যায়। যা মাসে ৮ বার করে হয়। এ জন্য তারা যাতায়াতের জন্য দুই হাজার আর বকশিস হিসেবে ৫ হাজার করে টাকা পেতেন।
 
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলোর গায়ে ইউএই, আল ইতিহাদ, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাম রয়েছে। বিল্লাল এবং ওলিয়ার রহমান একে অপরের শ্যালক দুলাভাই সম্পর্ক। বিল্লালের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছায়। আর ওলিয়ার রহমানসহ বাকি চারজনের বাড়ি বেনাপোল এলাকায়। ওলিয়ার রহমান ২ বছর থেকে এই চোরাচালানের ব্যবসা করলেও দুলাভাই বিল্লালসহ বাকিরা চার মাস হচ্ছে এই চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
 
এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের লে.কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান বলেন, মূলহোতাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এই চক্রের সঙ্গে পুরান ঢাকার ও বিমান বন্দরের কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
 
ইত্তেফাক/এমআই