তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়েছেন দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলম। গতকাল বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন দাখিল করা হয়। বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আগামী সোমবার এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
এদিকে শহিদুল আলম মানসিকভাবে সুস্থ আছেন। তার মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। ওই বোর্ডে ছিলেন বিএসএমএমইউয়ের সাইক্রিয়াটিক বিভাগের চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার ও ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান। তাদের দেয়া মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমরা ড. শহিদুল আলমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছি। কথা বলে মনে হয়েছে বর্তমানে তার মানসিক কোন সমস্যা নেই। শহিদুল আলমের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট হাইকোর্ট এক আদেশে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেয়। গত ১২ আগস্ট ওই প্রতিবেদন ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করা হয়।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে আল জাজিরা টিভির পাশাপাশি ফেসবুক লাইভে এসেও বক্তব্য রাখেন শহিদুল আলম। ওই বক্তব্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার অভিযোগ এনে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায় গত ৫ আগস্ট তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে রিমান্ডেও নেয়া হয়। এ মামলায় ৬ আগস্ট ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ১৪ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করা হলে ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য রাখেন। এরপর ১৯ আগস্ট শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আবেদন করা হলে তা গ্রহণ করেনি আদালত। এ অবস্থায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন এই আলোকচিত্রী।
