১০০ বল ক্রিকেট একেবারেই পক্ষে নন কোহলি

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১০:৪৮
আগামী মাসেই ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) শুরু করতে যাচ্ছে ‘১০০ বল ক্রিকেট’-এর মহড়া। আর ২০২০ সাল থেকে ইসিবি নিয়মিত আয়োজন করবে নতুন ফরম্যাটের এই ক্রিকেট। টি-টোয়েন্টির আরেকটু সংক্ষেপিত এই সংস্করণ নিয়ে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মধ্যে উত্সাহের অভাব নেই। কিন্তু ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি এই ক্রিকেটের একেবারেই পক্ষে নন।
 
কোহলি বলেছেন, যে তিনটি ফরম্যাট এখন চালু আছে, তা খেলতে খেলতেই ক্লান্ত ক্রিকেটাররা। এর মধ্যে আরেকটি ফরম্যাটের কথা তিনি চিন্তাই করতে পারেন না। উইজডেন ক্রিকেট মান্থলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান যুগের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান বলছিলেন, ‘অবশ্যই যারা এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে ও আয়োজনের সঙ্গে জড়িত, তাদের জন্য এটা নিশ্চয়ই রোমাঞ্চকর একটা ব্যাপার হতে যাচ্ছে। কিন্তু সত্যি বলতে, আমি আরেকটা ফরম্যাটের কথা আর চিন্তা করতেই পারছি না।’
 
কোহলির ধারণা, বাণিজ্যিক চিন্তাই এসব নতুন নতুন ফরম্যাটের জন্ম দিচ্ছে। আর বাণিজ্য আস্তে আস্তে কেড়ে নিচ্ছে ক্রিকেটের মৌলিক গুণগুলো। তিনি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, এই ফরম্যাটে তার অন্তত খেলার কোনো রকম আগ্রহ নেই, ‘আমি ইতোমধ্যে খুবই... না, হতাশ বলবো না। কিন্তু কখনো কখনো, যখন আপনি এত বেশি ফরম্যাট খেলবেন, তখন মনে হয়, এগুলো খুব বেশি নিংড়ে নিচ্ছে। আমি অনুভব করি, কোথাও না কোথাও বাণিজ্যিক চিন্তা ক্রিকেটের সত্যিকারের মানকে কেড়ে নিচ্ছে। আর এটা আমাকে খুব আহত করে। সত্যি বলি, আমি একজন ক্রিকেটার হিসেবে আরেকটা নতুন ফরম্যাটে পরীক্ষা দিতে রাজী নই। আমি সেই বিশ্ব একাদশের সদস্য হতে রাজী নই, যারা এসে এই ১০০ বলের ক্রিকেটের উদ্বোধন করবে।’
 
কোহলি টি-টোয়েন্টির বিরোধিতা অবশ্য করছেন না। তিনি বলছেন, যা চালু আছে, তা নিয়ে আপত্তি করার কিছু নেই। নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিপক্ষে এই ভারতীয় অধিনায়ক, ‘আমি আইপিএল খেলতে ভালোবাসি। বিগ ব্যাশ দেখতে ভালোবাসি। কারণ, ওখানে তো একটা উদ্দেশ্যে খেলাটা চলছে, কতগুলো উঁচু মানের দল লড়াই করছে এবং এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। একজন ক্রিকেটার হিসেবে সেটাই আমি চাই। আমি এসব লিগের পক্ষে। কিন্তু নতুন করে কোনো পরীক্ষার পক্ষে নই।’
 
যাই হোক, ইংল্যান্ডের এই আয়োজনের বিরোধিতা করলেও ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলার আগ্রহ এখনো আছে এই সেরাদের কাতারে নাম লিখিয়ে ফেলা ব্যাটসম্যানের। এবার ইংল্যান্ড সফরকে সামনে রেখেই সারের হয়ে খেলার কথা ছিল তার। কিন্তু কাঁধের চোটের ফলে সেই সুযোগ মিস করেছেন তিনি।
 
তারপরও কাউন্টির প্রতি তার টান নষ্ট হয়নি, ‘কাউন্টি ক্রিকেট আমাকে সবসময়ই টানে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবার সেটা (খেলা) হয়নি আমার। তবে আমি ভবিষ্যতে অবশ্যই এখানে খেলতে চাইব। আমি অনেক বছর ধরে অনেক খেলোয়াড়ের কাছে অনেকভাবে শুনেছি যে, কাউন্টি ক্রিকেট খেলে তারা উপকৃত হয়েছেন। সেই সঙ্গে আমি বুঝি যে, এখানে কী পেশাদার একটা ব্যবস্থা আছে এবং বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচকে এখানে কী শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা হয়।’
 
ইত্তেফাক/কেআই