আরিচা-কাজিরহাট, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়াসহ বিভিন্ন নৌপথে অবৈধভাবে চলাচলকারী ইঞ্জিন চালিত নৌকায় যাত্রী পারাপার করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ‘নীরব’ ভূমিকায় প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তিন দিন আগে শিবালয়ের আলোকদিয়ায় যমুনায় নৌকা ডুবি ঘটনার রেশ না কাটতেই প্রতিদিন ১০/১২টি রুটে অর্ধ শতাধিক নৌকায় যাত্রী ও মালপত্র বহন করা হচ্ছে। ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে কাজিরহাট থেকে আরিচা আসার পথে শতাধিক যাত্রী বোঝাই নৌকা ডুবির ঘটনায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিশুসহ ৩ জনের সলিল সমাধি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতিপূর্বে এ সকল রুটে প্রায় ছোট-বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দায়সারা গোচের ভূমিকায় সচেতনমহল উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এহেন অবৈধ চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ প্রবণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন আরিচা থেকে পাবনার কাজিরহাট, নগরবাড়ি, বেড়া, শাহজাদপুর, এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, রাখসা, পার্শ্ববর্তী বাঘুটিয়া, বাঁচামারা, জিয়নপুর, চরকাটারী, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া, কুশিয়ারচর, গোদারহাট ইত্যাদি রুটে উত্তাল পদ্মা-যমুনা পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন আকৃতির নৌকা চলাচল করছে।
নৌকার মাঝি-মাল্লারা জানায়, স্থানীয় প্রশাসন, প্রভাবশালী জন-প্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মীদের ‘ম্যানেজ’ করে এ ব্যবসা চালাতে হয়। বিভিন্ন সমিতি ও কমিটির নামে পরিচালিত এ সকল নৌকা থেকে টাকা আদায় করা হয়। নির্ধারিত টাকা না দিলে হয়রানির শিকার হতে হয়।
আরিচা ইঞ্জিন চালিত নৌকা মালিক সমবায় সমিতি সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, উপজেলা সমবায় অফিসে রেজিস্ট্রেশনকৃত সমিতির নামে ২৫টি নৌকা মালিক নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা সেক্টর নৌ নিরাপত্তা ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদল ইসলাম জানান, এ সকল রুটে চলাচলকারী অবৈধ নৌকা মালিক, মাঝি-মাল্লাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ও পুলিশ কর্মকর্তা বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
