অনেকটা চায়ের পাতার মতো দেখতে। কিন্তু ভয়াবহ ধরনের মাদক। পানির সঙ্গে মিশিয়ে চায়ের মতো করে এটি সেবন করে মাদকসেবীরা। মাদকটির নাম নিউ সাইকোএকটিভ সাবসটেনসেস (এনপিএস)। তবে দেশে এ মাদক আগে কখনই দেখা যায়নি। নওয়াহিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গ্রিন টি’র নামে বাংলাদেশে এ নতুন মাদক আমদানি করেছে। গতকাল শুক্রবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বিমানবন্দর থেকে তাদের আমদানি করা প্রায় ৪০০ কেজি এনপিএস জব্দ করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন আফ্রিকার ইথিওপিয়া থেকে এনপিএসের একটি চালান বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদারের নেতৃত্বে গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো গুদাম থেকে প্রায় ৪০০ কেজি এনপিএস জব্দ করেন। গ্রিন টি’র প্যাকেটে করে এ মাদক প্যাকেটজাত করা ছিল। আমদানিও হয়েছে গ্রিন টি হিসেবে। জব্দ করা এনপিএস সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করানো হবে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গ্রিন টি’র নামে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে জিয়াদ মোহাম্মাদ ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি এ মাদক বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার জানান, এনপিএস অনেকটা চা পাতার গুঁড়োর মতো দেখতে। পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল করে এটি সেবন করা হয়। সেবনের পর মানবদেহে এক ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করে। অনেকটা ইয়াবার মতো প্রতিক্রিয়া হয়। এক ধরনের গাছ থেকে এনপিএস তৈরি হয়ে থাকে। এটি ‘খ’ ক্যাটাগরির মাদক।
নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, এই মাদকের বাংলাদেশে গ্রাহক রয়েছে বলে গোয়েন্দা তারা তথ্য পেয়েছেন। তবে এ মাদক বিদেশে পাচার করার জন্য রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হয়। এদেশে আনার পর নতুন করে প্যাকেট করে পাচার করা হয়।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
