ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্কুলছাত্র রিয়াদকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমমভাবে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে রিয়াদের সহপাঠি, শিক্ষক, পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী।
শনিবার দুপুরে গফরগাঁও-মাইজবাড়ি সড়কে ঘাগড়া –উথুরী-ছিপান উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্য়ন্ত মানববন্ধন চলাকালে রিযাদ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন উথুরী নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল, ঘাগড়া –উথুরী-ছিপান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর আব্দুস সামাদ, শিক্ষক মীর মোশাররফ হোসেন, শিক্ষিকা মাকসুদা খাতুন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান কালা মিয়া, রিয়াদের পরিবারের পক্ষে আব্দুল আজিজ বাবুল প্রমুখ।
এদিকে গফরগাঁও থানা পুলিশ ঘাগড়া টাওয়ারের মোড় বাজারের ব্যবসায়ী উথুরী গ্রামের কাজিম উদ্দিনকে (৫৫) আটক করে রিয়াদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তা দেখিয়ে শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
IMG0
গফরগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ খান বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার হওযা কাজিম উদ্দিন ঘাগড়া টাওয়ারের মোড় বাজারে ব্যবসা করার পাশাপাশি নৈশ প্রহরীর কাজও করে থাকে । তদন্তে এই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে উথুরী- ঘাগড়া টাওয়ারের মোড় বাজারের আশরাফুলের মনিহারী দোকানের ‘তালা ভাঙার চেষ্টার’ অপরাধে ঘাগড়া –উথুরী-ছিপান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রিয়াদকে আটক করে বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফুল, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রশিদ ও বিএনপি নেতা মীর রাসেল। রশিদ, আশরাফুল, মীর রাসেল ও তাদেও সহযোগিরা রিয়াদকে বাজারের একটি কাঠাঁল গাছের সঙ্গে বেঁধে আড়াই ঘন্টা ধরে বেধড়ক পিটিয়ে , বিভৎস নির্যাতন করে। কিশোর রিয়াদ চিৎকার করে জান ভিক্ষা চাইলেও পাষণ্ডের দল পিটিয়ে রিয়াদের মৃত্যু নিশ্চিত করে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ইত্তেফাক/নূহু
