চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ত্রিপুরা পল্লীর সর্তা ত্রিপুরা (২৯) নামের অসুস্থ এক গৃহবধুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠান। অপরদিকে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ত্রিপুরা পল্লী থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে সুস্থ হয়ে আরও ৫ জন সোমবার বাড়ি ফিরে গেছে।
জানা যায়, অসুস্থ সর্তা ত্রিপুরা (২৯ কে প্রচন্ড জ্বরের কারণে তার স্বামী চন্দ্র কুমার ত্রিপুরা সোমবার দুপুরে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ দক্ষিন উদালিয়ার সোনাইরকুলের ত্রিপুরা পল্লীর নিজ বাড়ী থেকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক সর্তা ত্রিপুরার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
এদিকে ত্রিপুরা পল্লীর একই পরিবারের তিনজন গীতা রানী ত্রিপুরা (৩), তার ছোট বোন শুভ রানী ত্রিপুরা( ১) এবং তাদের মা চম্পা ত্রিপুরাকে (২৩) গত ২৬ আগস্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। সুস্থ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিয়ে দেয়ার তারা বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর শরীরে জ্বর দেখা দিলে মাত্র ২ দিন পর আবারও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভর্তি হয়।
গত শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্র পেয়ে ঝর্না ত্রিপুরা (৩), সুকান্দ ত্রিপুরা (৩), লক্ষণ ত্রিপুরা (৩), ইমা ত্রিপুরা (৮ মাস), শিমুল ত্রিপুরা (৫), সুনিল ত্রিপুরা (৮), গুমাধন ত্রিপুরা (৭) বাড়ি ফিরে গেছে। হাম রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ধন কুমার ত্রিপুরা (৫২), কবিতা ত্রিপুরা (৮), সরতী ত্রিপুরা (৩২), সাগর ত্রিপুরা (৭), মদন ত্রিপুরা (৯) সুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সৈয়দ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন বলেন, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ২৮ জন সুস্থ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিয়েছেন।
হাটহাজারী উপজেলার ত্রিপুরা পল্লীতে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে গত রবিবার ২৬ আগস্ট সকালে অন্ন বালা ত্রিপুরা (৭), ২৪ আগস্ট শুক্রবার সম রায় ত্রিপুরা (৩) এবং মঙ্গলবার ২১ আগস্ট একই দিনে অন্ন রায় ত্রিপুরা (৫) ও কিশা মনি ত্রিপুরা (৩) নামের দুই শিশু সহ মোট চারজনের মৃত্যু হয় এবং আরো ৩২ জন হাম ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সোনালী ত্রীপুরা (৫), গোপাল ত্রিপুরা (২), মেনশন চাকমার (৪) অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশন ডিজিজে (বিআইটিআইডিতে) স্থানান্তর করা হয়েছিল।
ইত্তেফাক/কেআই
