কুমিল্লায় ২ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল মনিরের

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:২৪
কুমিল্লার তিতাসের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির হোসেন এবং দাউদকান্দির মো. ইসলাম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া মনির ওরফে কালা মনিরকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে জেলার দাউদকান্দির গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ জালাল উদ্দিনের আদালতে ওই দুটি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে সে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলা দুটির তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা ডিবি পুলিশের এসআই সহিদুল ইসলাম।
 
গ্রেপ্তারকৃত মনির জেলার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের মৃত কানু মোল্লার ছেলে।
 
জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম ডিবির একটি টিম নিয়ে সোমবার রাতে মনিরকে গ্রেপ্তার করে। পরে মঙ্গলবার বিকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করার পর মনির দুটি হত্যার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় পৃথক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
 
এর আগে গত ৩ মে গভীর রাতে দাউদকান্দির বাজরা গ্রামে মো. ইসলামকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে উদ্ধার করে ঢামেকে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
 
অপরদিকে গত ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিতাসের ভাটিপড়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির হোসেন বাড়ির পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বসে থাকা অবস্থায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দির গৌরীপুর হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে তিতাস থানায় পর দিন হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ দুটি হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় মনির। বর্তমানে দুটি হত্যা মামলা তদন্ত করছেন ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম।
 
তিনি জানান, ঘাতক মনির আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির ও ইসলাম হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে পৃথক পৃথকভাবে জবানবন্দী দিয়েছে। দুটি হত্যাকাণ্ডে একই পিস্তলের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে হাজী মনির হত্যা মামলায় তিতাস থেকে মোফাজ্জল ও সুমনকে গ্রেপ্তারের সময় উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি পরীক্ষা করে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। মনিরের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি ও তিতাস থানায় হত্যা ও অস্ত্রসহ ৮টি মামলা রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ