রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আজ শেষ হয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেছে। মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ১০, ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর।
রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে একুশে আগস্টের ঘটনায় আনা পৃথক মামলায় একই সঙ্গে বিচার চলছে। টানা ৮৯ কার্যদিবসে মামলায় ৪৫ আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ হয়েছে।
আসামিপক্ষ আজ যুক্তিতর্ক শেষ করায় আদালত ও প্রসিকিউশন ধন্যবাদ জানায়। আজ আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে তার আইনজীবী এসএম শাহজাহান দ্বিতীয় দিনে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক শেষ করেন।
এর আগে বাবরের পক্ষে আইনজীবী নজরুল ইসলাম সাক্ষ্য তথ্য-প্রমাণের আলোকে আট কার্যদিবস যুক্তিতর্ক পেশ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল আজ আইনি পয়েণ্টে যুক্তিতর্ক পেশ শুরু করেন। তিনি তার শুনানিতে, ২১ আগস্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলা মামলায় পুনঃতদন্ত কিভাবে করা যায় তার আইনি ভিত্তি তুলে ধরছেন। এ বিষয়ে তিনি উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন রেফারেন্স তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মামলার যে কোন স্তরে ন্যায়বিচারের স্বার্থে পুনঃতদন্ত করা যায়।
উল্লেখ্য, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামিপক্ষে সাক্ষিদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্যদিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
ইত্তেফাক/এমআই
