আলমডাঙ্গার এক সময়ের অনেকগুলো ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ মাদকসেবীরা দখল করে নিয়েছিল। এসব মাঠের পাশ দিয়ে মানুষজন যাওয়া-আসা করতো ভয়ে ভয়ে। সন্ধ্যার পর পুরো মাঠ মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠতো। সেইসব মাঠে এখন মহাসমারোহে চলছে খেলা। একেক মাঠে ক্রিকেট, একেক মাঠে ফুটবল নিয়ে তরুণরা দৌড়াদৌড়ি করছে। এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।
আলমডাঙ্গার সন্তান দুজন এ্যাডিশনাল আইজিপি মীর শহিদুল ইসলাম ও সফিকুল ইসলাম বাড়িতে এসে পুলিশকে মাদক নির্মূলে কড়া নির্দেশ দিয়ে যান। ঠিক এ সময় থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন আবু জিহাদ খান। অত্যন্ত সৎ অফিসার জিহাদ মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলাজুড়ে জিহাদ ঘোষণা করেন। ওসির জিরো টলারেন্সে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের ভেতরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। রাঘববোয়াল মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের যেতে হয় জেলখানায়। বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনাও ঘটে।
IMG0
পুলিশের নির্মোহ অভিযানে ছয় মাসের মাথায় আলমডাঙ্গায় মাদকের অস্তিত্ব প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসে। এরপর ওসি জিহাদ উপজেলাজুড়ে খেলাধুলায় সাামজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তরুন প্রজন্মকে মাঠে ফিরিয়ে আনতে তিনি গ্রামে গ্রামে গিয়ে মোটিভেশনের উদ্যোগ নেন। এতে তিনি রীতিমত সফল হন।
থানার ওসি আবু জিহাদ খান ইত্তেফাককে বলেন, 'মাদকমুক্ত সমাজ গড়াকেই একটি মহৎ কাজ হিসেবে মনে করি আমি। যতদিন এই সুযোগ আমার থাকবে আমি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা পালন করে যাব। কারণ মাদক থেকেই সমাজ বা রাষ্ট্রে নানা অনাচারের সুষ্টি হয়।'
মানুষ যা কল্পনা করেনি সেটা আজ নিজ চোখে দেখছেন। কোথাও কোনো মাদকের কারবারী নেই। মাদকসেবীদের চেহারায় পরিবর্তন এসেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রংয়ের জার্সি পরে খেলার আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরছে।
এই জয়োল্লাসে যোগ হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুর্ধ্ব ১৭ জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৮। এখন প্রতিদিন শহরের সড়কজুড়ে, গ্রামের পথে পথে খেলোয়াড় তরুনদের খেলায় বিজয়োল্লাসের শ্লোগান।
ইত্তেফাক/নূহু
