কুমিল্লার তিতাসের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির হোসেন এবং দাউদকান্দির ইসলাম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে ডিবির হাতে আটক তিতাসের মনির হোসেন ওরফে কালা মনির। মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ জালাল উদ্দিনের আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। সোমবার রাতে ডিবি পুলিশ মনিরকে দাউদকান্দির গৌরীপুর থেকে গ্রেফতার করে। মনিরের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি ও তিতাস থানায় হত্যা, অস্ত্রসহ ৮টি মামলা রয়েছে।
জানা যায়, গত ৩ মে গভীর রাতে দাউদকান্দি বাজরা গ্রামে মো. ইসলামকে সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে গত ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিতাসের ভাটিপাড়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির হোসেন বাড়ির পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বসে থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে, কুপিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোক্তার হোসেন নাঈম বাদী হয়ে তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে দুটি মামলা ডিবিতে তদন্তাধীন। উক্ত দুটি হত্যাকাণ্ডে কালা মনির সরাসরি অংশ নেয়।
মামলা দুটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম জানান, ঘাতক কালা মনির আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির হোসেন ও ইসলাম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে পৃথকভাবে জবানবন্দী দিয়েছে।
তিনি আরো জানান, দুটি হত্যাকাণ্ডে একই পিস্তুলের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। কিছুদিন আগে তিতাস থেকে মোফাজ্জল ও সুমনকে গ্রেপ্তারের সময় উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি পরীক্ষা করে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। মনিরের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি ও তিতাস থানায় হত্যা, অস্ত্রসহ ৮টি মামলা রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
