নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানা পুলিশ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যতিক্রমধর্মী ভ্রাম্যমাণ থানা কার্যক্রম চালু করেছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির অপরাধ বিরোধী গণমুখী পুলিশিং ব্যবস্থাপনার অংশ হিসাবে এবং জেলা পুলিশ সুপারের মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
জানা গেছে, নির্যাতিত লোকজন যাতে হয়রানির শিকার না হয়, দালালদের খপ্পরে না পড়ে, এবং সরাসরি ওসির নিকট অভিযোগ জানিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাওয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ থানার কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।
ভ্রাম্যমাণ থানায় জিডি করা, মামলা দায়ের, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদান, আইনি পরামর্শসহ সকল আইনি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এতে কোনো প্রকার হয়রানি বা অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। এলাকার অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী সম্পর্কে লোকজন গোপনে, সরাসরি থানার ওসিকে তথ্য দিচ্ছে। তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হচ্ছে। এতে করে গত ২/৩ মাসে চাটখিলের আইন শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে।
ওসি, ডিউটি অফিসার এবং কনস্টেবলগণ ভ্রাম্যমাণ থানায় গিয়ে লোকজনের বিভিন্ন অভিযোগ গ্রহণ করছেন। স্পটেই জিডি, মামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
ভ্রাম্যমাণ থানায় বসার আগে এলাকার লোকজনকে তাদের অভিযোগ নিয়ে আসার জন্য মাইকিং করাসহ বিভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে। গত ১ মাসে দশঘরিয়া, বদলকোট, কুলশ্রী ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, সিংবাহুড়া গার্লস একাডেমি, শাহাপুর ইউপি পরিষদ কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ থানার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো থানা এলাকায় এ কার্যক্রম চলবে। ভ্রাম্যমাণ থানা কার্যক্রম পরিচালনা করায় পুলিশের সেবা সম্পর্কে জনগণের নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন এসেছে। মাদকও অনেকটা নির্মূল হয়েছে। কমেছে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম।
IMG0
সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম, মাদকের জমজমাট ব্যবসা, পুলিশের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগসহ আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। এসময় পুলিশের সর্বোচ্চ পুরষ্কার পিপিএমপ্রাপ্ত ইমাউল হককে ওসি হিসেবে চাটখিল থানার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি যোগদানের পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোকজনকে তথ্য প্রদানের জন্য আহ্বান জানান। মাদক নির্মূলে থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের শপথ করান। সৃষ্টি করেন গণসচেতনতা।
এদিকে বর্তমানে থানায় জিডি, মামলা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে কোন প্রকার টাকা দিতে হয় না। এ সময়ে নাশকতার মামলায় ৪২ জন, মাদক ব্যবসায়ী ৮০ জন, মাদকসেবী ৪০ জন, নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানার ৬০ জনকে গ্রেফতার এবং বিপুল সংখ্যক মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ওসি ইমাউল হক জানান, পুলিশ সম্পর্কে জনগণের ধারণার পরিবর্তন করতে তিনি ভ্রাম্যমাণ থানার কার্যক্রম শুরু করছেন।
তিনি আরো জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অফিসারদের শপথ করানোর পর মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে।
IMG1
ইত্তেফাক/জেডএইচ
