এক সময় ফুটবল, ভলিবল, কাবাডি, ঘোড়দৌর, কানামাছি, ডাংগুলি ইত্যাদি খেলার জন্য রাজৈর উপজেলার বেশ নাম ডাক ছিল। পাশাপশি গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা, ব্যাটমিন্টন, বৌচি, ইচিংবিচিং, ওপেন টি বাইস্কোপ, কানামাছি ইত্যাদি গ্রামীণ খেলার প্রচুর প্রচলন ছিল। কিন্তু মাঠ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে অনেক গ্রামীণ খেলা।
বর্ষা মৌসুমে রাজৈরের প্রতিটি ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের মাঠে আয়োজন করা হতো ফুটবল বা কাবাডি খেলার প্রতিযোগিতা। দেওয়া হতো আকর্ষণীয় পুরস্কার। এখন আর তেমন চোখে পড়ে না সেই খেলার মাঠ ও খেলা।
রাজৈর পৌরসভার টেকেরহাট বন্দরে শহীদ কবীর মাঠটি এখন শিশুপার্ক তথা গরুর হাটে পরিণত হয়েছে। এমনি করে আমগ্রাম ইউনিয়নে তিনটি, বাজিতপুর ইউনিয়নের তিন খেলার মাঠের জায়গাসহ ইশিবপুর, কবিরাজপুর, হোসেনপুরের অনেক মাঠের জায়গা ক্রমেই মাঠ পার্শ্ববর্তীদের বা প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এছাড়াও প্রাইমারি ও হাই স্কুলের মাঠগুলোও বেদখল হয়ে গেছে। এভাবে উপজেলা থেকে খেলার মাঠ হারিয়ে যেতে থাকায় খেলাধুলার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে যুব সমাজ এমনকি কিশোর-কিশোরীরাও খেলাধুলার পরিবর্তে স্মার্ট মোবাইল ফোন ট্যাব, ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা টিভির স্ক্রিনে বন্দি হয়ে পড়ছে। ঘরের চার দেয়াল আটকে যচ্ছে দুরন্ত শৈশবের প্রাণচঞ্চল জীবন।
রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল জানান, মাঠে খেলার স্বাদবঞ্চিত শিশুরা বেড়ে উঠছে চার দেয়ালের ঘরবন্দি মানুষের মতো। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ।
রাজৈর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান খান জানান, ইতোমধ্যে দুটি খেলার মাঠ সংস্কার করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে অন্যান্য খেলার মাঠ বা মাঠের জায়গা উদ্ধার করে সংস্কারের আওতায় আনা হবে।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, যে খেলার মাঠগুলো আছে তা সংরক্ষণের পাশাপাশি আরো খেলার মাঠ তৈরি করা দরকার আছে বলে মনে করি। খেলাধুলায় মনোনিবেশ থাকলে সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি পড়াশুনার দিকে ধাবিত হবে এবং মাদকসহ সমস্ত খারাপ পথ থেকে দূরে থাকবে।
বদরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, বদরগঞ্জেও হারিয়ে যেতে বসেছে শিশু-কিশোরদের গ্রামীণ খেলা। দিনের পর দিন গ্রামাঞ্চল ঘুরলেও এখন আর চোখে পড়ে না শিশু-কিশোরদের আগের দিনের সেই গ্রাম্য খেলাধুলা হা-ডু-ডু, গোল্লাছুট, বউচি, কানামাছি, লুকোচুরি, চোরডাকাত, পুতুল বিয়েসহ নানা ধরনের খেলাধুলা।
সরেজমিনে উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার দামোদরপুর ইউপির শেখেরহাট এলাকায় অল্প কয়েকজন শিশু-কিশোরের দেশিয় খেলার দৃশ্য চোখে পড়ে। এ সময় কথা হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফের সঙ্গে। সে জানায়, আমরা সময় পেলে মাঝে মাঝে লম্ফ খেলা খেলি। খেলাটি বেশ মজার। দুইজন দুইপা মেলে ধরে তার উপর তাদের হাতের আঙ্গুল খাড়া করে ধরে খেলতে হয়। আর অন্যজন লম্ফ দেয়। লম্ফ দিতে যদি কারো আঙ্গুলে ছোঁয়া পায় তাহলে তার খেলা শেষ হয়। তখন অন্যজনের খেলা শুরু হয়। এটাই খেলার নিয়ম।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান, দেশিয় সংস্কৃতি ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সবাইকে বিশেষ করে অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানকে হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। না হলে এক সময় কালের বিবর্তনে বিলীন হয়ে যাবে গ্রামবাংলার এসব খেলা।
ইত্তেফাক/নূহু
