বহিষ্কার না হলেও বিএনপি নেতার বহিষ্কারাদেশ ভাইরাল

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:১৪
কুমিল্লার তিতাস উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার বহিষ্কারদের ৮ মাস পর ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বহিষ্কার না হলেও বহিষ্কারাদেশ ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে। 
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা-২ আসনের বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এমকে আনোয়ার মারা যাওয়ার পর উপজেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একপক্ষ এমকে আনোয়ারের ছেলে মাহমুদ আনোয়ার কায়জারে অনুসারী এবং আরেকপক্ষ ড. খন্দকার মোশাররফের অনুসারীতে পরিণত হয়। যেসব নেতাকর্মীরা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষ নিয়েছিলেন সেলিম ভূঁইয়া ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। বিষয়টি মানতে পারেনি কায়জারের অনুসারীরা। কায়জারের মতামতের ভিত্তিতে এবছরের ৫ জানুয়ারি উপজেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি ভূঁইয়া লিখিতভাবে বিষয়টি কুমিল্লা (উত্তর) জেলা কমিটিকে অবহিত করে সেলিম ভূঁইয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করার জন্য আবেদন করেন। সেই প্রেক্ষিতে ১০ জানুয়ারি কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সরকার তাকে বহিষ্কার করেন। কিন্তু বিষয়টি ৮ মাস গোপন থাকার পর উপজেলা কমিটির যুবদলের কর্মী শাহিদুল ইসলাম শাহিদের ফেসবুকে বহিষ্কারাদেশগুলো ভাইরাল হয়। 
 
মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া জানান, আমি বিএনপির একজন কর্মী। অন্যকোন দলের অনুসারী নই, যদি অন্যকোন দলের অনুসারী হই তাহলে কেন আমি রাজনৈতিক মামলার শিকার হই। বহিষ্কারাদেশ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি। তবে দীর্ঘদিন পর ফেসবুকে এটি ভাইরাল হয়েছে কেন তাও জানি না। 
 
শাহিদুল ইসলাম শাহিদ জানান, পোষ্টটি আমি দেইনি। একটি ফেক আইডি থেকে কপিগুলো ডাউনলোড করে আমি প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছি। তবে সিনিয়র নেতাদের আমি বিষয়টি জানাইনি এবং প্রতিবাদ ও নিন্দা সম্পর্কে তারা কেউ কিছু জানে না।
 
সদর ইউনিয়নের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলী হোসেন মোল্লা বলেন, কাগজপত্রমূলত আমার কাছে থাকে, তবে বহিষ্কারাদেশগুলো আমার কাছে কেউ দেয়নি। এটি এতদিন কোথায় ছিল আমি জানি না। 
 
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার বলেন, তৎকালীন সময়ে জায়জার সাহেবের মতামতের ভিত্তিতেই এটি করা হয়েছিল। কিন্তু সেলিম যেহেতু দলের একনিষ্ঠকর্মী তাই এটি স্থগিত রাখা হয়েছিল।
 
কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সরকার বলেন, একটা প্রেক্ষাপটে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু কায়জার সাহেব রাজনীতিতে না আসায় মোশাররফ সাহেব কুমিল্লা-২ আসনের হালধরায় বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়। বর্তমানে সেলিমের বিরুদ্ধে কোন বহিষ্কারদের নেই। কিভাবে কাগজ দুটি ফেসবুকে ভাইরাল হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ