দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ চার কিলোমিটার লাইন

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:৪০
গতকাল শুক্রবারও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ফেরি ঘাট থেকে গোয়ালন্দের পল্লীবিদ্যুত্ কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার যানবাহনের লাইন দেখা যায়। এরমধ্যে বাস, ট্রাক ছিল। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় যাত্রী সাধারণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গতকাল বিকেলে দেখা যায়, ফেরি ঘাট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা চারলেন সড়ক পর্যন্ত যানবাহনের দুই সারি। চারলেন সড়কের পশ্চিম ভাগের এক লেনে পণ্যবাহী ও আরেক লেনে যাত্রীবাহীবাসসহ অন্যান্য গাড়ি আটকে আছে।
 
যশোরের থেকে আসা লোহার কুচি বোঝাই ট্রাক চালক আব্দুল জব্বার বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ঘাট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে গাড়ির লম্বা লাইনে আটকা পড়েন। ৩০ ঘণ্টা পার হলেও তিনি ফেরিতে ওঠতে পারেননি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরিতে ওঠবেন বলে আশাবাদী।
 
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় জানায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ওই রুটের অনেক গাড়ি আসছে। এছাড়া নিয়মিত গাড়ির সাথে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এবং নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় স্রোতও বেড়েছে। এছাড়াও বড় ফেরি ভাষা শহীদ বরকত গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকল হয়ে গতকাল দুপুর পর্যন্ত বসে ছিল। দৌলতদিয়ার ছয়টি ঘাটের মধ্যে এক ও দুই নম্বর ঘাটে বেশ কিছুদিন ধরে ফেরি ভিড়তে পারছে না। এসব কারণে জট লেগেছে। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ১৭টি ফেরি চললেও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটের গাড়ির চাপ থাকায় দৌলতদিয়ায় দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এছাড়া নদী উত্তাল থাকায় ফেরিগুলো চলছে বেশি সময় নিয়ে। এসব কারণে উভয় ঘাটে গাড়ি আটকা পড়ছে।   
 
শিমুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টা পর লঞ্চ ও সিবোট চালু
 
এদিকে মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ২৪ ঘণ্টা পর লঞ্চ ও সিবোট চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় ফেরি চলাচলেও স্বাভাবিক ছিল। এর আগে প্রচণ্ড সে াতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে লঞ্চ ও সিবোট চলাচল বন্ধ ছিল। গতকাল ১৫টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়। নাব্যতা সঙ্কটে ফেরি চলে ওয়ানওয়েতে এবং নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ থাকায় ফেরি চলতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এতে পারাপারে সময় লাগছে বেশি। সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত উভয় ঘাটে আটকা পড়েছে ৪ শতাধিক যান।  বিআইডব্লিউটিসি’র এজিএম খন্দকার শাহ খালেদ নেওয়াজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু