সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের শালমারা বেইলী ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ায় ঐ এলাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ভারি ট্রাকের চাপে রবিবার বিকালে ভেঙে পড়ে ব্রিজটি। জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাচনাবাজারসহ জামালগঞ্জ উপজেলার একাংশ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভাটির জনপদের কয়েক লাখ লোক বিপাকে পড়েছে।
ভেঙে পড়া ব্রিজ কবে মেরামত হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারি প্রকৌশলী প্রথমে ১০-১৫ দিন সময় লাগবে জানালেও পড়ে বললেন সব জিনিস পাওয়া গেলে ৩-৪ দিন সময় লাগবে। সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের স্টিলের বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর জেলার দিরাই-মদনপুর সড়কের অধিক ঝুকিপূর্ণ আরও তিনটি সেতু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়, ঝুকিপূর্ণ স্টিলের তিনটি বেইলি ব্রিজ হল, কাঠইর ব্রিজ, বোগলাকাড়া ব্রিজ ও পাথারিয়া এলাকার কাছে গরগাহপুর ব্রিজ। এগুলোর ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৫ মে. টন। কিন্তু দিনরাত ১০-১৫ টন মালামাল নিয়ে ট্রাক আসা-যাওয়া করে। তারা জানায়, কাঠইর স্টিলের বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়লে সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জামালগঞ্জ উপজেলার একাংশসহ দিরাই-শাল্লার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
মদনপুর-দিরাই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কটি সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জামালগঞ্জ উপজেলার একাংশসহ দিরাই-শাল্লার সঙ্গে জেলা সদরের সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র সড়ক। এই সড়কের কোনো না কোনো ব্রিজ প্রায়ই ভঙ্গে পড়ার ঘটনা ঘটে। এতে যারপরনাই দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং অর্থের অপচয় হয়।
সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকজন যানবাহন চালক বলেন, গত ২০ বছর ধরেই মদনপুর-দিরাই সড়কে এমন দুর্ভোগ চলছে। তারা ঝুকিপূর্ণ স্টিলের বেইলি ব্রিজগুলোর স্থলে স্থায়ী আরসিসি ব্রিজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন,‘মদনপুর-দিরাই সড়কের তিনটি বেইলি ব্রিজ ঝুকিপূর্ণ। এসব ব্রিজ নতুন করে নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। ঝুকিপূর্ণ ব্রিজের উপর দিয়ে যাতে অধিক মালামালবাহী কোন যানবাহন চলাচল না করতে পারে সে লক্ষ্যে নোটিশ লাগানো হয়েছে। কিন্তু কেউ তা মানে না।
ইত্তেফাক/নূহু
