এশিয়া কাপে অম্ল-মধুর স্মৃতি রয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালে একপ্রান্তে ১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশ পুড়েছিল ২ রানে ম্যাচ হারের বেদনায়। ২০১৬ সালে আবার সেই পাকিস্তানকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠার ম্যাচে ১৫ বলে অপরাজিত ২২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হতে চলা এশিয়া কাপের ১৪তম আসর রাঙাতে চান বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ব্যাট হাতে দলের জয়ে অবদান রাখতে চান। নিজের সেরাটা পারফর্ম করার চেষ্টা করবেন বলে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) ওয়েবসাইটকে বলেছেন মাহমুদউল্লাহ।
ব্যাট হাতে ভালোই ফর্মে আছেন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে রান পেয়েছেন। পরে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও (সিপিএল) ঝড়ো ব্যাটিংয়ের নজির গড়েছেন তিনি। খেলেছেন ১১ বলে অপরাজিত ২৮ রানের ইনিংসও। এশিয়া কাপে ব্যাটিংয়ের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বড় কিছু করার আশা মাহমুদউল্লাহর।
এসিসির ওয়েবসাইটকে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এশিয়া কাপে কিছু করার চেষ্টা করবো। দলের জন্য অবদান রাখতে পারলে ভালো লাগে, সেই ভালো লাগা আরো বেড়ে যায় যদি দল জেতে। আমি ব্যাপারটাকে সহজভাবে দেখতে চাই এবং যতোটা সম্ভব পারফর্ম করতে চাই।’
এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের হারাতে সেরা ক্রিকেটই খেলতে হবে বলে জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। ১৫৬ ওয়ানডে খেলা এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার সাথে আমাদের দারুণ কিছু স্মৃতি আছে। তবে শ্রীলঙ্কা শক্তিশালী দল এবং তারা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। তাদের হারাতে হলে আমাদের সেরাটা খেলতে হবে। আমরা দেশে থাকতে খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি ভালো কিছু করতে পারবো।’
ওয়ানডেতে ভালো ছন্দেই আছে বাংলাদেশ। তাই বলে খুব স্বস্তির সুযোগ নেই। মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘সত্যি কথা বলতে, সবগুলো দলই এখন ভালো ক্রিকেট খেলছে। প্রতিটি দলই গুরুত্বপূর্ণ, সুতরাং স্বস্তিতে থাকার কোনো সুযোগ নেই। আর আমরা পুরো আসরকে একটা একটা ম্যাচে ভাগ করে চিন্তা করতে চাই। এতে প্রথম দিকে ভালো কিছু করতে পারবো।’
দুবাইয়ে গরমটা এখন প্রচণ্ড। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। আমিরাতে রয়েছেন অনেক বাংলাদেশি। দুবাই-আবুধাবিতে মিরপুর স্টেডিয়ামের মতোই দর্শকদের সমর্থন আশা করছেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘এখানে প্রচুর বাংলাদেশি নাগরিক থাকেন। সুতরাং অনেক বেশি সমর্থন পাবো বলেই বিশ্বাস করছি। আশা করি তারা মাঠে আসবেন, আমাদের সাপোর্ট করবেন এবং আমরা তাদের জন্য ভালো কিছু করবো।’
ভিসা জটিলতার কারণে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন এখনও যেতে না পারায় বাংলাদেশের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন স্ট্রেন্থ এন্ড কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়ন। দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেস ভালো অবস্থায় আছে বলেই মনে করেন এই লঙ্কান কোচ।
তিনি বলেছেন, ‘গত চার বছরের তুলনায় এখন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ভালো। আর একটা কথা হলো, আমার ব্যাকগ্রাউন্ড যেহেতু ক্রিকেট, তাই শুধু ফিটনেস নিয়ে নয়; আমি অন্যান্য স্কিল নিয়েও খেলোয়াড়দের সাহায্য করতে পারি।’
