বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান কার্যক্রম বই পড়া। স্কুলের ক্ষুদে পাঠক থেকে শুরু করে তরুণদের হাতেও বই তুলে দেয় এই্ সংগঠনটি। শুধুমাত্র কলেজের একাদশ শ্রেণির বই পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বই পড়ার এক বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করে।
প্রতি শুক্রবার সকালে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গোটা কর্মসূচিটি চলে ১৮ সপ্তাহ। ১৮ সপ্তাহে দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা লেখকদের কিশোর উপযোগী গল্প-উপন্যাস মিলিয়ে সর্বমোট ১২ টি বই পড়তে দেওয়া হয় অংশগ্রহণকারীদের। প্রতি সপ্তাহে একটি করে বই পড়তে হলেও কলেজের পড়াশোনা-পরীক্ষার চাপ মাথায় রেখে আরও ৬ সপ্তাহ বেশি সময় দেওয়া হয়। এই ১৮ সপ্তাহে বইগুলো পরিচয় করিয়ে দেয় বিশ্ব বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সঙ্গে।
প্রতি সপ্তাহ শেষে সবাই একসঙ্গে নিজেদের পড়া বই নিয়ে আলোচনা করে। সেখানে উপস্থিত থাকেন দেশবরেণ্য সব সাহিত্যিক-কথাশিল্পীরা। কখনও উপস্থিত থাকেন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ নিজে। এবার এই শিক্ষকদলে যোগ দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।
IMG0
কর্মসূচিতে বইপড়ার পাশাপাশি কেন্দ্রের মিলনায়তনে যায় পাঠকেরা। সেখানে চলচিত্র গ্যালারিতে আয়োজন করা হয় দেশ-বিদেশের নানা উপভোগ্য চলচিত্র দেখার আসর। কেন্দ্রের অন্য তলায় চোখে পড়ে কিশোরদের গানের আসর আর আড্ডা। সব মিলিয়ে এই অনবদ্য সময় কাটে গোটা কর্মসূচিতে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই কলেজ কর্মসূচি কেবল কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়। নৌকা ভ্রমনসহ ঢাকা শহরের নানা প্রান্তে ভ্রমণের সুযোগও আছে এই কর্মসূচিতে। বিভিন্ন দিবসের আয়োজনের পাশাপাশি ব্যাচের নামকরণ উৎসব, শ্রাবণের আড্ডা আর বর্ষামঙ্গল মিলিয়ে এক অসাধারণ সময় কাটে গোটা কর্মসূচিতে।
কর্মসূচির প্রতিটি ব্যাচের রয়েছে আবার আলাদা নাম। ‘উদ্ভট উনত্রিশ’, এমন মজাদার নাম যেমন আছে তেমনি আছে খুব কঠিন নাম "নিঃশঙ্ক অন্বেষক"।
বই পড়া শেষ হলে থাকে ছোট একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা। এ পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয় কে কয়টি বই পড়েছে। যে যত বেশি বই পড়বে, সে পাবে তত বেশি পুরস্কার। পরীক্ষায় প্রতিটি বই থেকে দুটি করে মোট ২৪টি সহজ প্রশ্ন করা হয়। যারা ২৪টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবে তারা সব কয়টি বই পড়েছে বলে ধরা হবে। তারা পাবে সেরাপাঠক পুরস্কার। যারা ১০টি বই পড়বে তারা পাবে অভিনন্দন পুরস্কার, আটটি বই পড়লে শুভেচ্ছা পুরস্কার এবং কমপক্ষে ছয়টি বই পড়লে পাওয়া যাবে স্বাগত পুরস্কার। আঠার সপ্তাহ শেষে কারো ফল ভাল হলে সারাজীবন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক হিসাবে কাজ করারও সুযোগ থাকবে। কেন্দ্রের বাইরে ঢাকার আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এই কলেজ কর্মসূচি।
এ বছর শুরু হয়েছে এই কর্মসূচির ৩৪তম ব্যাচের কার্যক্রম। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত নিবন্ধন চলবে এই কার্যক্রমের। অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুকদের দ্রুত যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।
সদস্য হওয়ার নিয়ম :
কলেজের পরিচয়পত্র কিংবা বেতন বই, ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে যোগাযোগ করতে হবে। শুক্রবারেও খোলা থাকবে। সদস্য ফি হিসাবে ২০ টাকা এবং জামানত হিসেবে ৮০ টাকা (ফেরতযোগ্য) দিতে হবে। যারা ইতোমধ্যে নিজ নিজ কলেজে সদস্য হয়েছে তারাও আসতে পারবে।
যে কোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ : ০১৬৮২০২৭৫০৮(অশ্চুতা নন্দ শাওন, সংগঠক) কিংবা ০১৭৬১৪৯৬৪৯৭ (শেখ হারুন অর রশীদ, প্রোগ্রাম অফিসার)
যোগাযোগের ঠিকানা: ১৭ নং ময়মনসিংহ রোড , বাংলামোটর, ঢাকা-১০০০।
কর্মসূচিতে নির্বাচিত বইয়ের তালিকা: তারাস বুলবা, কবি, হাসির গল্প হাসির ছড়া, বনফুলের শ্রেষ্ঠ গল্প, প্লেটোর সংলাপ, শ্রেষ্ঠ বিদেশি গল্প, গাদ্দার, কৃঞ্চকান্তের উইল, শ্রেষ্ঠ বাংলা গল্প, সোজন বাদিয়ার ঘাট, ক্রীতদাসের হাসি ও সপ্তপদী।
ইত্তেফাক/নূহু
