এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী বাছাই চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল বড় জয় দিয়ে শুরু করেছে। ১০-০ গোলে বাহরাইনকে হারালেও বাংলাদেশের একজন ফুটবলারও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি। হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও খেলোয়াড়দের মাঝে এই নিয়ে কোনো আফসোস নেই।
ছোট ছোট মেয়েরা গোল করতে পারলে অনেক খুশি। আর হ্যাটট্রিক করতে পারলে আরো খুশি; কিন্তু ১০ গোলের খেলায় হ্যাটট্রিক না হওয়ায় অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা, আনুচিংদের কষ্ট নেই। বাহরাইনের বিপক্ষে আনচিং মগিনি ২, মারিয়া ২, ছোট শামসুন নাহার ২, আনাই মগিনি, বড় শামসুন নাহার, সাজেদা এবং তহুরা ১টি করে গোল করেন। হ্যাটট্রিক করার সুযোগ ছিল তিন ফুটবলারের; কিন্তু একজনও সেটা আদায় করে নিতে পারল না। খেলা শেষে এই নিয়ে প্রশ্নও উঠল।
অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা এবং শামসুন নাহার— দুইজনেই এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। হ্যাটট্রিকের প্রশ্ন তারা হাসি মুখেই বলে গেলেন কোনো আফসোস নেই। হ্যাটট্রিক হলে খুশি হতাম। ভালো লাগত। মারিয়া মান্ডা বলছিলেন। কথার সঙ্গে যোগ করে দিয়ে মারিয়া বললেন, ‘দল জিতেছে সেটাইতো বড়।’
পাশে ছিলেন শামসুন নাহার। তার কাছে গেলে সেও একই কথা শুনিয়ে দিল। দল জেতাটাই বড় কথা। মারিয়া বলছিলেন আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল প্রথম খেলায় জিততে হবে। এটা আমরা করতে পেরেছি। মারিয়া মান্ডা বলছিলেন দেখুন কিভাবে খেলব। বাহরাইন খেলতে নেমে সব ডিফেন্স হয়ে গেছে। ওরা উপরে উঠে আসেনি।’
ছোট প্রথমার্ধে এবং দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করেন। এবার এই ফুটবলার একাদশে নামলেন। সাফে ভুটানে বদলি খেলতে নেমে হ্যাটট্রিক করেছেন। এবার সেটাও পারেননি। আফসোস নেই। তার ভাষায় দল জিতাটাই বড় কথা। আমার হ্যাটট্রিক হয়ে যদি দল জিততে না পারত সেটা কি আমার জন্য সুখের হতো।’
আনাই মগিনি এবং আনুচিং মগিনি দুই বোন। দুই জনেই গোল করেছেন। সঠিক সময়ে বাংলাদেশ দলকে এগিয়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে দিয়েছেন এই দুই বোন। দুইজনের কেউ সংবাদ সম্মেলনে আসেনি। আনুচিং মিগিনিকে কোচ ছোটন খেলার দ্বিতীয়ার্ধে আর নামাননি। থাকলে হ্যাটট্রিক হতো কিনা নিশ্চিত না। তবে আনুচিং মগিনিকে তুলে দিয়ে সাজেদাকে নামিয়েছেন কোচ। সাজেদা নেমেই গোল করেন স্কোর লাইন হয় ৬-০।
বাংলাদেশ জিতছে; কিন্তু এই জয়টা কি বলে দেয় বাংলাদেশ উন্নত করেছে। কোচ ছোটন জানিয়েছেন খেলার ৮৫ ভাগ সময় আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি। বল আমাদের দখলে ছিল। আমরা বেটার ফুটবল খেলেছি। এভাবে খেলে গেলে বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে।’ এমন আত্মবিশ্বাস আছে কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের।
বাহরাইনের কোচ খালিদ হাসান বলছিলেন, ‘আমরা ভবিষ্যত্ দল গড়ছি।’ বর্তমান দল নিয়ে কোচ জানালেন তারা এক বছর আগে অনুশীলন শুরু করলেও মাঝে বন্ধ ছিল। ঢাকায় আসার ২ মাস আগে পুনরায় অনুশীলন শুরু করেন।’
প্রথম খেলায় লেবাননের কাছে ৪-০ গোলে হেরে গতকাল বাংলাদেশের কাছে ১০-০ গোলে হারল। দুই খেলায় ১৪ গোল হজম করে দলের কোচ খালিদ হাসান বললেন, ‘আমরা এই দলের ৭ জন ফুটবলার দলে আনতে পারিনি। তাদের পরিবার আসতে দেয়নি। কারো কারো স্কুলে পরীক্ষা চলছে।’
ইত্তেফাক/আরকেজি
