সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে ‘নিরপেক্ষ তদারকি সরকার’ এর অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ দশ দফা দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাওয়ের কর্মসূচি লাঠিপেটা করে পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের পর দুপুর দেড়টার দিকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের একটি মিছিল আগারগাঁঁওয়ের ইসি কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করে। মিছিলটি কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে পৌঁছালে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। নেতা-কর্মীরা বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, সার্ক ফোয়ারার কাছে গণতান্ত্রিক জোটের পদযাত্রা পৌঁছালে পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের উপর লাঠিচার্জ করে। পুলিশের হামলায় জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন ও সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লুনা নূরসহ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে সাইফুল হককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু ও গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ফিরোজ আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের ইসি ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশি হামলায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু। পৃথক বিবৃতিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন পুলিশি হামলার নিন্দা জানান।
ইত্তেফাক/নূহু
