নিত্যদিনের বহুবিধ ব্যবহারের জন্য মানুষ সস্তা এবং সহজলভ্য প্লাস্টিক বেছে নেয়। ১৯৫০ সালে পুরো পৃথিবীতে প্লাস্টিকের উত্পাদন ছিল মাত্র ২ দশমিক ২ টন। ৬৮ বছর পর ২০১৮ সালে সেটা এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩০ কোটি টনে। আর প্রতি বছর এই প্লাস্টিকের শতকরা ২ ভাগের স্থান হচ্ছে মহাসাগরে। প্লাস্টিক পরিবেশের পাশাপাশি ভয়াবহ প্রভাব ফেলে জীববৈচিত্র্যের ওপর। গত সাত দশকে এই হারে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে অনেক বেশি গবেষণা হয়েছে। অনেকেই প্লাস্টিকের সহজলভ্যতা এবং দামে সস্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিলেও সম্প্রতি বলা হচ্ছে, প্লাস্টিক পণ্যের নজরকাড়া নকশার কারণেই মানুষ প্লাস্টিকে আসক্ত হয়েছে।
ধারাবাহিক প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এদিন লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘লন্ডন নকশা উত্সবে’ প্লাস্টিক দূষণের কারণ হিসেবে নকশাকে দায়ী করেছেন আয়োজকরা। তাদের যুক্তি, একটা সময় মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে অভিনব এবং নজরকাড়া নকশা খুঁজতেন। গ্রাহকের এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে শিল্প কারখানার মালিকরা প্লাস্টিক পণ্যে বাহারি ডিজাইন সংযুক্ত করতে লাগলো। ফ্রাঙ্কলিন টিলের সহ-প্রতিষ্ঠাতার মতে, প্লাস্টিক এমন একটি পণ্য যেখানে নকশার সমন্বয় ঘটানোর একটি দারুণ সুযোগ রয়েছে। ডিজাইনের মাধ্যমেই আমরা প্লাস্টিকের প্রতি মানুষকে আসক্ত করে ফেলেছি। সেই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হলেও ডিজাইনই হতে পারে আসল সমাধান।
এই বছর লন্ডন ডিজাইন ফেয়ার ট্রেড শোতে প্লাস্টিককে রাখা হয়েছে প্রদর্শনীর মধ্যমণি হিসেবে। এবারের শো’তে কিছু তরুণ উদ্যোক্তা পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকে নিজেদের সৃষ্টিশীলতা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে প্লাস্টিকের ব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহার একে অপরের পরিপূরক। তবে খেয়াল রাখতে হবে প্লাস্টিককে সস্তা পণ্য হিসেবে না দেখে বরং পরিবেশকে টিকিয়ে রাখার জন্য যেভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার করা যায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। লন্ডন ডিজাইন ফেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা জিমি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনো বিকল্প হয়তো এই মুহূর্তে আমাদের সামানে নেই। তাই আমাদের পরিবেশ বান্ধব প্লাস্টিক তৈরির পথ খুঁজে বের করতে হবে। এই প্লাস্টিক হবে ‘নতুন প্লাস্টিক’। একই সাথে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে যেসব উপাদান ব্যবহার করা যায় সেগুলোও অনুসন্ধান করতে হবে।-সিএনএন
ইত্তেফাক/আরকেজি
