ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েও অনিশ্চয়তায় গোয়ালন্দের স্বপন

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:৪৯
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছেন না স্বপন বেপারী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই তার। তার বাবা রাজ্জাক বেপারী একজন ভূমিহীন জেলে। বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাত্তার মেম্বারের পাড়ায়।
 
আলাপকালে স্বপন জানায়, বারবার নদী ভাঙনে তাদের পরিবার সর্বশান্ত। বর্তমানে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে এক চাচার দেওয়া একটু জায়গায় আপাতত আশ্রিত। বাবার নিজস্ব জাল ও নৌকা নেই। এলাকার জয়নাল হালদারের নৌকায় শ্রমিকের মতো কাজ করে যা উপার্জন হয় তাই দিয়ে কোনমতে ৫ জনের সংসার চলে। যখন নদীতে মাছ থাকে না বা অভিযান চলে তখন তাদের খেয়ে না খেয়েই দিন কাটাতে হয়। তার ছোট দুটি ভাইও লেখাপড়া করে। ছোট একটি দোচালা ঘরের দুটি কামরায় তারা কোনরকম মাথা গুঁজে থাকে।
 
স্বপন জানায়, তার স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার। সেটা হয়েছে। সে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি (জিপিএ ৪.৫৬) এবং গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে (জিপিএ ৪.১৭) এইচএসসি পাশ করে। দুটো পরীক্ষার একটিতেও জিপিএ-৫ না পাওয়াতে কিছুটা হতাশ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। শুধু বাড়িতে বসে চেষ্টা করে হবে না ভেবে বাবা তার স্বপ্ন পূরণ করতে একটি এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা লোন নেন। সেই টাকা খরচ করে ঢাকায় একটি মেসে থেকে গত ৪ মাস একটি কোচিং সেন্টারে কোচিং করে। ওই টাকার কিস্তি শোধ করতেই বাবাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন ভর্তি ও অন্য খরচ মিলিয়ে ২০-২৫ হাজার টাকা দরকার। কিভাবে এ টাকার ব্যবস্থা হবে জানে না স্বপন।
 
স্বপনের মা সিমা বেগম বলেন, 'আমার পোলার স্বপ্ন লেহাপড়া কইরা ম্যাজিস্ট্রেট হইবো। কিন্তু আমরা গরীব মানুষ ক্যামনে ওর স্বপ্ন পুরা করুম। ওর বাবায় কয় দরকার অইলে রক্ত বেইচা ছাওয়ালরে পড়ামু। কিন্তু তাই কি অয়। এমন কোন আপনজনও নাই যে আমার পোলাডারে একটু সাহায্য করবো'।
 
দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সহিদুল ইসলাম জানান, স্বপন একজন অদম্য মেধাবী ছাত্র। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে এইচএসসি পাশ পর্যন্ত সে বৃত্তি পেয়ে নিজের খরচ চালিয়েছে। আমরাও তাকে সাধ্যমতো সহায়তার চেষ্টা করেছি। ওর মতো দরিদ্র ও মেধাবীকে সামনে এগিয়ে যেতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার।
 
ইত্তেফাক/নূহু