সাড়ে ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার সকালে রমনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের উপপরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মো. নূরুল ইসলাম বর্তমানে অবসরকালীন ছুটিতে রয়েছেন। তিনি এক সময়ের মংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার ছিলেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে প্রসাধনী পণ্য আমদানির আড়ালে সাড়ে ৪ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদক একটি মামলা করে। ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর এ মামলায় দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে একটি দল এ মামলায় তাকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেফতার করেছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৯ আগস্ট আসামি মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি ১৯৯৯-২০০০ করবর্ষ থেকে তার আয়কর নথি চালু করেন। দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ২৯ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকার সম্পদ এবং ১ লাখ ২৫ হাজার ১৬৭ টাকা দায়-দেনা দেখিয়েছেন। কিন্তু গত ২০০১-২০০৩ সালে ক্যাপ্টেন এম আমিনুল হকের কাছ থেকে নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মিসেস কামরুন বদর এবং শ্বশুর মো. আনসার উদ্দিন খান যৌথভাবে মোট ৮২ লাখ টাকায় ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএসে (রোড নং- ০৬, ৩৬৭নং প্লট) প্লট ক্রয় করেন। এতে নুরুল ইসলাম আরব বাংলাদেশ ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পে-অর্ডারে পরিশোধ করেন। যা তার আয়কর নথি ও সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শন করেননি।
সুতরাং দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তিনি গোপন করে ওই টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে নিজ দখলে রেখেছেন যা অনুসন্ধানকালে প্রমাণিত হয়েছে। এ অবস্থায় আসামি সাবেক কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) এবং ২৭(১) ধারায় অপরাধ করেছেন।
ইত্তেফাক/এমআই
