শিবির কর্মী সাজিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ( চবি) এক শিক্ষার্থীকে বেধরক মারধর করেছে শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ফয়েজুর রহমান সিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের ছাত্র। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চবি মেডিকেল সেন্টারে প্রাথিমক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মারধরকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতাকর্মী এবং চবি ছাত্রলীগের সাবেক উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল টিপুর অনুসারি বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর দুইটার দিক দিকে স্টেশান চত্বরে সিয়ামকে শিবির কর্মী বলে মারধর করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় সিয়ামের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে সিয়ামেক তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাঁড়ি পুলিশের কাছে তুলে দেয়।
এ বিষেয় চবি ছাত্রলীগের সাবেক উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল টিপু বলেন, গত পরশু পাহাড়তলীতে তিনজন শিবিরকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের বিশ্বিবদ্যালেয়র হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অতীতে অনেক শিবির ক্যাডার ছিল। বিভিন্নভাবে আমাদের ছোট ভাইয়েরা সিয়ামের শিবির সংশ্লিষ্টতার কথা জানতে পারে। পরে আজ তাকে স্টেশন চত্বের পেয়ে কথা বলতে চাইলে সে দৌড় দেয়। পরে আমাদের জুনিয়ররা তাকে আটক করে। তার মোবাইল চেক করলে মোবাইলে শিবির গ্রুপের মেসেজ এবং ব্যাগে কিছু জিহাদী বই পাওয়া যায়। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ কাছে তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে মারধরের শিকার সিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালে মিলনের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঝামেলা হয়। সেই ঝামেলা থেকেই আজ মিলন আমাকে শিবির সাজিয়ে তার জুনিয়র দিয়ে মারধর করে। মিলন হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা যায়।
এদিকে চবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থেল আমি ছিলাম না। ছাত্রলীগের কয়েক কর্মী সিয়াম নামে এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ ফাঁড়িতে দিয়ে গেলে আমি প্রক্টর স্যারের সঙ্গে কথা বলে মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে প্রাথিমক চিকিৎসা শেষ তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্রলীগের অভিযোগ অনুযায়ী সিয়ামের শিবির সংশ্লিষ্টতা আছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এমন কিছু কেউ বলে নাই। সিক্সটি নাইন গ্রুপের কয়েকজন বলেছে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি নিয় একটু ঝামেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে চবি প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, পুলিশের সাহায্যে আমারা সিয়াম নামের এক শিক্ষার্থীকে মেডিকেল সেন্টারে পাঠিয়েছি। তবে তার বিরুদ্ধে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেফাক/নূহু
