রোহিঙ্গা সংকট মনুষ্যসৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়: আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৫১
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন ও সংকটকে মনুষ্যসৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় পূর্ণ তদন্ত দাবি করেছেন আসিয়ান জোটভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। 
 
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান এই তথ্য জানান।  
 
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন আসিয়ান দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকে ১০ এশীয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীও ছিলেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ও সহিংসতা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এটি মনুষ্যসৃষ্ট একটি মানবিক সংকট। এখনকার দিনে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি উচিত হবে না। দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারকে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অবস্থা জিইয়ে রাখা হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চল ও এর বাইরে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়তে পারে। 
 
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। জীবন বাঁচাতে দেশটি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাত লাখের বেশি মানুষ। সম্প্রতি জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে দাবি করে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে।
 
সু চি’র কর্মকাণ্ড দুঃখজনক তবে পুরস্কার রাখতে পারবেন: নোবেল কমিটি
 
রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’র নেওয়া কিছু পদক্ষেপ ‘দুঃখজনক’ হলেও তার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধান লারস হেইকেনস্টেন। 
 
শুক্রবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে তিনি যা করছেন তা প্রশ্নবিদ্ধ। তবে পুরস্কার প্রত্যাহারের চেষ্টা অর্থপূর্ণ কিছু হবে বলে মনে করি না। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই পুরস্কার পাওয়ার পর অনেকেই এমন কিছু করেন যা আমরা অনুমোদন করতে পারি না, সেগুলো যে ঠিক তাও মনে করি না। আগেও এমনটা ছিল, এটা এড়ানো যাবে না বলেই মনে হয় আমার। 
 
স্টকহোমভিত্তিক এ ফাউন্ডেশনই ছয়টি বিভাগে সুইডেন ও নরওয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নোবেল পুরস্কার দেখভাল করে থাকে। আগামী অসলোতে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এর আগে শান্তি পুরস্কার প্রদানকারী নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, কারো পদক প্রত্যাহারের বিষয়টি তাদের আইনে নেই।
 
ইত্তেফাক/এমআই