পাবনার বেড়া উপজেলার চাঞ্চল্যকর তিন পুলিশ হত্যা মামলায় আট চরমপন্থীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক অনুপ কুমার জনার্কীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
এছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
খালাসপ্রাপ্ত ৫ জন বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। খালাসপ্রাপ্ত বাকি তিনজন এবং সাজাপ্রাপ্ত ৫ জন রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত অপর ২ আসামি জহুরুল ইসলাম ও হাশেম ওরফে খোকন এখনো পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডিরা হলেন- পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালাচর গ্রামের জহুরুল ইসলাম, রাজধরদিয়া গ্রামের নিজাম ফকির, ধারাই গ্রামের রফিক ওরফে জৈটা রফিক, পশ্চিম কাছাদিয়া গ্রামের আইয়ুব আলী ও শুকুর আলী সরদার, পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের হাশেম ওরফে খোকন ওরফে বাচ্চু, সুজানগরের পাকুড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কানা আলম এবং রাজবাড়ীর মাইছেঘাটার জোসন মোল্লা। উল্লেখিতরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্য বলে আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে প্রকাশ, ২০১০ সালের ২০ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেল নেওয়ার জন্য ঢালাচর পুলিশ ফাঁড়ির চার সদস্য যথাক্রমে ইনচার্জ এসআই কফিল উদ্দিন (৫০), নায়েক ওয়াহেদ আলী (৩৫) এবং কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম (৩৫) ও রশিদুল ইসলাম (৩৪) ঢালাচর বাঁধের মালদারহাটে যান। সেখানে সশস্ত্র চরমপন্থীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কফিল উদ্দিন, ওয়াহেদ আলী ও শফিকুল ইসলাম পাশের জনৈক আক্কাস আলীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় ওই বাড়ি থেকে তাদের ধরে বাঁধের ওপর নিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। এরপর হত্যাকারীরা সর্বহারা দলের শ্লেগান দিয়ে চলে যায়। কিন্তু কনস্টেবল রশিদুল ইসলাম পালানোর সময় বাঁধের নিচে কুচুরি পানার মধ্যে পড়ে প্রাণে রক্ষা পান। এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী কনস্টেবল রশিদুল ইসলাম ২১ জুলাই বেড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১৬ সালে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ ৯ বছর পর সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বুধবার উপরিউক্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এন্তাজুল হক বাবু। আসামি পক্ষের আইনজীবী আবু বাক্কার ও রইসুল ইসলাম রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
ইত্তেফাকে/কেকে
