গোয়ালন্দে শ্বাসরোধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:২৯
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী আলমাছ বেপারীর (৩৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউপির দুলাল বেপারী পাড়ার কাইমদ্দিন বেপারীর ছেলে। নিহত গৃহবধূর নাম জরিনা খাতুন (৩০)। সে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার মাধবদিয়া ইউনিয়নের আকবর আলী মালতডাঙ্গীর ইয়াকুব আলীর মেয়ে। তাদের ঘরে ১০বছর বয়সী এক কন্যা ও ৭ বছরের এক ছেলে রয়েছে।  
 
নিহত গৃহবধূর পরিবার ও এলাকার লোকজন জানান, মঙ্গলবার (২অক্টোবর) দিবাগত রাত একটার দিকে স্বামী আলমাছ বেপারীর বসত ঘরে গৃহবধূ জরিনা বিষ খেয়েছে বলে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন আশপাশের লোকজনকে খবর দেয়। পরে প্রতিবেশীর একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সাযোগে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
বুধবার ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠায়।
 
গৃহবধূর বড় ভাই হানিফ শেখসহ পরিবারের অন্যরা অভিযোগ করেন, আলমাছের সঙ্গে প্রতিবেশী শহীদের স্ত্রী চায়না বেগমের পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাঝেমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাটি হলে আলমাছ সৌদি আরব চলে যায়। ছয় মাস আগে সৌদি থেকে দেশে ফিরে আসার পর ফের ওই গৃহবধূর সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া হয়। গতকাল ভোর রাতের দিকে জরিনার মৃত্যুর খবর পেয়ে গোয়ালন্দ হাসপাতালে ছুটে যান।
 
অভিযোগ অস্বীকার করে আলমাছ বেপারী বলেন, দুইদিন আগে ঘাস কাটা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য দেখা দেয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এক সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকলেও রাত একটার দিকে দেখতে পান পাশে স্ত্রী নেই। দুই ঘরের মাঝের ফাঁকা স্থানে জরিনা পড়ে আছে। তার দাবি, জরিনা খাতুন বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে।
 
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোঃ এজাজ শফী বলেন, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সঠিক কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। গৃহবধূর পরিবার থেকে হত্যার অভিযোগ করায় গতকাল দুপুরে অভিযুক্ত আলমাছ বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর পরিবার থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু