অবশেষে নওগাঁ জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক ট্রাফিক আজাহার আলীকে একটি বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন। সেই সঙ্গে জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বাইসাইকেল দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ‘ভিন্ন চোখ’ পাতায় ‘নওগাঁর রাস্তায় এক অক্লান্ত সবুজ সংকেত’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর প্রশাসনের উচ্চ মহলে আজাহারের বিষয়টি নজরে আসে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আজাহারকে নিয়ে নিউজ প্রকাশ করা হয়।
আজাহার আলী বলেন, আমার অসহায়ত্ব দেখে এসপি স্যার (পুলিশ সুপার) যে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আশা করছি পরিবার পরিজন নিয়ে একটু মাথা গোজার ঠাঁই হবে। আর আমাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে সাংবাদিকদের প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আলী মণ্ডল বাবু বলেন, আজাহার নিতান্ত অসহায় ব্যক্তি। ফেরিঘাটে ট্রাফিক সেবা দিয়ে তার জীবন জীবিকা চলে। যেহেতু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে একটি বাড়ি করে দেওয়া ও সহযোগিতা করা হবে বলে শুনছি, যা খুবই ভাল উদ্যোগ। এতে আজাহারে সেবা দেওয়ার মানসিকতা আরো বেড়ে যাবে বলে মনে করছি।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, এসপি স্যার নিজেই আজাহারকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার বাড়িতে ইট, বালু ও অন্যান্য জিনিসপত্র পৌঁছানো হয়েছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই দুই ঘর বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান অম্লান জ্যোতি নাগ বলেন, আনসার ভিডিপি থেকে আজাহার আলী প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তিনি যে জনকল্যাণমূলক কাজ করছেন এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা মান্দা উপজেলা মাসিক সমাবেশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে একটি বাইসাইকেল দেওয়ার জন্য মনস্থির করেছি। যাতে তিনি বাড়ি থেকে গন্তব্য স্থলে আসা যাওয়া করতে পারেন। শিগগিরই তাকে বাইসাইকেলটি দেওয়া হবে বলে আশা করছি।
IMG0
আজাহার আলীকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন। ছবি ইত্তেফাক
নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে স্বেচ্ছায় ট্রাফিকের সেবা দিয়ে মহৎ কাজ করেছেন আজাহার আলী। মহৎ কাজে পুলিশ সবসময় সহযোগিতা করবে। প্রাথমিক অবস্থায় তার জন্য একটি ইটের বাড়ি তৈরি করে দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অন্যান্য সহযোগিতা করা হবে।
উল্লেখ্য, নওগাঁর মান্দা ফেরিঘাটে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে চৌরাস্তা ও মহাদেবপুর উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী ট্রাফিক আজাহার ২০ বছর যাবৎ স্বেচ্ছাশ্রমে ট্রাফিক সেবা দিয়ে আসছেন। এরমধ্যে মহাদেবপুরে ৮ বছর ট্রাফিক সেবা দিয়েছেন। দরিদ্র ও ভূমিহীন এ আনসার সদস্য পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে সরকারি জায়গায় রাস্তার ধারে কুড়োঘরে বসবাস করে আসছেন। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষীরামপুর গ্রামে।
শত অভাব ও প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও এতোগুলো বছর স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেছেন পঞ্চাশর্ধ্ব আজাহার আলী। প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ ওই স্থানটিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলসভাবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করায় দুর্ঘটনা অনেক কমে গেছে। তবে ইউএনও অফিস ও থানা থেকে যে আর্থিক সহযোগিতা তাকে দেওয়া হতো তা ছিল যৎসামান্য।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
